বিজ্ঞাপন

জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে গাদ্দারি করবেন না, সরকারকে মামুনুল হকের হুঁশিয়ারি

জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে গাদ্দারি করবেন না, সরকারকে মামুনুল হকের হুঁশিয়ারি

জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে গাদ্দারি করলে ক্ষমতার মসনদে থাকার কোনো অধিকার থাকবে না বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেটে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, আমাদের ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। যে জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে, সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আন্দোলন থেকেই আমাদের ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছে। সুতরাং আমি সেকথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, আমাদের ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। সুতরাং যতদিন পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।

মামুনুল হক বলেন, আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমরা জুলাই বিপ্লব যারা করেছিলাম, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম। আমাদের নেতাকর্মীরা গুম, খুন, হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল। আমাদের ভাইয়েরা শাপলা চত্বরে জীবন দিয়েছেন। আমাদের ভাইয়েরা ২০২১ সালের বিরোধী আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন। আমাদের দেড় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। ত্রিশ হাজার জুলাই যোদ্ধা আজও বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করছে। আমাদের অনেক ভাইবোন চিরদিনের জন্য চোখের জ্যোতি হারিয়েছে। আমাদের অনেক ভাইবোন চিরদিনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে নিয়েছে। মনে রাখবেন, শহীদদের স্বপ্ন, যোদ্ধাহত জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণ করা ছাড়া রাজপথ থেকে বিচ্যুত হতে পারি না আমরা।

মামুনুল বলেন,বর্তমান সরকারকে আমরা বলতে চাই, আপনারাও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের সহযোগী ছিলেন। বরং আমি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলতে  চাই, ফ্যাসিবাদ বিরোধী  আন্দোলনে সবচেয়ে বড় অংশীদার ছিলেন আপনারা। তাই আমরা আপনাদের কল্যাণকামী।

তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘ অভিযাত্রায়  আপনাদেরকে আমাদের বন্ধু মনে করি। বন্ধু মনে করেই আমরা যেমন দেশের কল্যাণ চাই, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপিরও কল্যাণ চাই। আর কল্যাণ চাই বলেই আমরা বারবার বলছি, যে জুলাই বিপ্লবের ওপর ভিত্তি করে ক্ষমতার মসনদে বসেছেন, সেই জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে যদি গাদ্দারি করেন, ক্ষমতার মসনদে থাকার কোনো অধিকার আপনাদের থাকবে না। জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে গাদ্দারি করবেন না। দোহাই লাগে, আপনাদের প্রথমে পায়ে ধরে বলব, তারপর হাতে ধরে বলব। যদি পায়ে ধরে, হাতে ধরে বললেও কথা না শুনেন ঘাড় ধরতে আমাদের এতোটুকু হাত কেঁপে উঠবে না।

তিনি বলেন, সরকারকে আমরা বলতে চাই, দেখেন, আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার। পঞ্চাশ পার্সেন্ট জনগণের ভোটের ম্যান্ডেট নিয়ে যেভাবেই হোক, যে পথেই হোক আপনারা সরকার গঠন করেছেন। পঞ্চাশ পার্সেন্ট জনগণ সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদানের যে ভোটাধিকার সম্মান করেছে, গণভোটে প্রায় সত্তর পার্সেন্ট মানুষ যে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করেছে, সেই সত্তর পার্সেন্ট মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে যদি ছিনিমিনি খেলতে চান, ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিতে চাই আমি আপনাদেরকে। ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে গণরায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল পশ্চিম পাকিস্তানিরা। এর পরিনামে মুক্তিযুদ্ধকে তাদের ফেস করতে হয়েছিল এবং বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে বিনা ভোটের সরকার, ২০১৮ সালে রাতের ভোটের সরকার, ২০২৪ সালে আমি ডামির সরকারের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে শুধু ক্ষমতার মসনদ নয়, বাংলার সীমানা থেকে সে ওপারে গিয়ে পড়েছে।

মামুনল হক সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, আপনাদেরকে বলতে চাই, সত্তর পার্সেন্ট জনগণের এই ম্যান্ডেটের সঙ্গে যদি আপনারা বিশ্বাসঘাতকতার এই ধারা অব্যাহত রাখেন, আপনাদের পরিণাম পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এবং শেখ হাসিনার পরিণতি চেয়ে ভিন্ন কিছু হওয়ার কথা নয়। আপনারা গণভোটের রায়টা কার্যকর করেন। ভালো হবে আপনাদের। দেশের মানুষকে সম্মান দেখান। আপনারা আমাদের কথা শুনবেন, শুনবেন একসময়। তবে বাংলাদেশে একটা কথা আছে, একটা প্রাণীর কথা যে পানি খায়, তবে ঘোলা করে খায়। আমি সেই প্রাণীর নাম বলতে চাইলাম না।

রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমরা বলেছিলাম এই চুপ্পুরে রাইখেন না। আমরা বলেছিলাম, শেখ হাসিনার লেস্পেন্সার চুপ্পু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মসনদে থাকতে পারে না। কথাটা ভালো লাগেনি? কথাটা ভালো লাগেনি আপনাদের। আজ যখন সে রাষ্ট্রপতির মসনদ থেকে আপনাদেরকে ছোবল মারতে উদ্যত হয়েছে তখন স্পিকারকে ২৪ ঘণ্টার নোটিশে হাসপাতাল থেকে ডেকে এনে সেই চুপ্পুকে আপনারা বিদায় করলেন। সেই তো পানি খেলেন, সেই তো জলটা খেলেন ঘোলা করার পরে খেলেন।

মাসুদ আহমদ রনি/এসএইচএ