সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ছিলিমপুর এলাকায় বন বিভাগের কর্মকর্তার সামনেই এলাকাবাসী একটি মেছোবাঘ পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে ছিলিমপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল আহাদ চৌধুরীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগের অবহেলা ও উদ্ধার তৎপরতার ব্যর্থতার কারণেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বন্যপ্রাণীটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির কেয়ারটেকার ফিরোজ মিয়া উঠানের আমগাছে মেছোবাঘটি দেখতে পান। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক এলাকাবাসীর মধ্যে বাঘ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন বাঘ দেখতে সেখানে ভিড় জমান। পরে সুনামগঞ্জ জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মো. আনিসুর রহমানকে বিষয়টি জানানো হলে দুপুর ১২টার দিকে তিনি এবং জগন্নাথপুর থানার এসআই অনিক রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ ভিড় সামলে লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিলেও ফরেস্টার আনিসুর রহমান প্রাণীটি উদ্ধারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বন বিভাগের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বা কোনো উদ্ধার তৎপরতা না থাকায় প্রাণীটি ধরার জন্য ওই কর্মকর্তা কেবল একটি চটের ব্যাগ নিয়ে আসেন, যা দেখে উপস্থিত জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৩টায় ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাণীটিকে গাছ থেকে নামায়। গাছ থেকে নামার পরই মেছোবাঘটি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় উপস্থিত জনতার একাংশ লাঠি ও টেঁটা নিয়ে প্রাণীটির ওপর হামলা করে। উপর্যুপরি হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণীটির মৃত্যু হয়।
জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র সাফরোজ ইসলাম বলেন, জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতায় একটি বন্যপ্রাণীর নির্মম মৃত্যু দুঃখজনক।
তামিম রায়হান/আরএআর
