ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় এক সমাবেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ‘ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে এসেছেন’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারি। তার বক্তব্যের পর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপি।
বক্তব্যের শুরুতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্সের সমালোচনা করে নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “আমাদের নোয়াখালীতে খুব দুষ্টুমি করলে বলে নাডা। আপনাদের দিকে কী বলে? আজকে সে একটা নাডামি করল। আজকে আমাদের এখানে প্রোগ্রাম হচ্ছে, সে এদিকে আরেকটা প্রোগ্রাম দিচ্ছে।”
“এমন পচা পচছে, নষ্ট হয়ে গিয়েছে, শেষ পর্যন্ত ইলেকশনটাও জিততে পারে নাই।”
সীমান্ত দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই নেতা বলেন, “সীমান্তে যত আওয়ামী লীগের লোক ভারতে গিয়েছে, ৮০ পার্সেন্ট লোক এই ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে গিয়েছে। আমাদের খোঁজ করতে হবে, এমরান সালেহ প্রিন্স কি এটার সঙ্গে জড়িত ছিল কিনা। এটাতে ইনভেস্টিগেশনও করতে হবে।”
“আমরা দেখেছি, এই সীমান্ত দিয়েই কিন্তু ওসমান হাদির খুনি পালিয়ে গিয়েছে। তাহলে যদি এখানে সন্ত্রাসী বাংলাদেশে গুলি করে চলে যায়, ওই পাশ থেকে সন্ত্রাসী আসে, তাহলে বাংলাদেশের ময়মনসিংহবাসী, হালুয়াঘাটবাসীর নিরাপত্তা কোথায়? এটা আমরা সরকারকে প্রশ্ন রাখতে চাই।”
নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, মানুষের লজ্জা থাকলে বেহায়ার মতো কথা বলে না।আমরা এখনো আশায় বুক বেঁধে আছি। এখনো সংসদে আমরা বলেছি যে সংস্কারের জন্য আমরা কাজ করতে চাই। রাজপথ উত্তাল করবেন না। রাজপথ উত্তাল হলে আপনার সেই সক্ষমতা নাই গদি টিকানোর বাংলাদেশে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদেরকে অনেক বোঝায়। কী লাগবে তোমাদের? কী আছে তোমার কাছে? ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে এসেছো লন্ডন থেকে। ভারতের কাছে গিয়েছো আরেকটা ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে। সেখান থেকে মোদি বাবু তোমাকে আলকান মুছা দিয়েছে। গিয়েছো চীনেও, সেখানেও একটা লাথি খেয়ে এসেছ। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তোমার কিছু দেওয়ার নাই।”
নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “যদি অর্জন করতে হয়, আমাদের আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। কোনো জিয়া ফ্যামিলি আর শেখ ফ্যামিলির দিকে আমাদের তাকানোর সময় নাই।”
বক্তব্যের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক মিছিল

এ বক্তব্যের পরপরই হালুয়াঘাট উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া (বাবুল), পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ সাকেরুল্লাহ এবং উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু হাসনাত বদরুল কবির।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এনসিপির নেতা নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তারা এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রেখে দায়িত্বশীল ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
সাখাওয়াত সুমন/এসএমডব্লিউ
