বিজ্ঞাপন

ফ্যামিলি কার্ডের কর্মী নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা

ফ্যামিলি কার্ডের কর্মী নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা

নীলফামারীর ডোমারে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কর্মী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে অনেক পরীক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে পরীক্ষা না দিয়ে চলে যান।

শনিবার (২৫ জুলাই) ডোমার উপজেলা পরিষদে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলমান ভাইভা পরীক্ষায় এমন চিত্র দেখা যায়।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ও এর তথ্য সংগ্রহ কাজের জন্য জনবল নিয়োগ বা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে শনিবার সকাল থেকে ভাইভা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সিরিয়াল করে পরীক্ষার্থীদের ভাইভা নেওয়ার কথা থাকলেও সেটি করা হয়নি। অনেক পরীক্ষার্থী দেরি করে এসেও আগে ভাইভা দিয়ে চলে গেছেন। অনেকের সঙ্গে সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তার সুসম্পর্ক থাকায় তিনি অনেক পরীক্ষার্থীর ভাইভা না নিয়েই পাঠিয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মচারী ও সমাজসেবা কর্মকর্তার সুপারিশে অনেক পরীক্ষার্থী দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করেন।কর্মকর্তার স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা না দিয়েই চলে গেছেন।

পরীক্ষার্থী আসাদুল্লাহ আল মাদানী বলেন, অনেকে ভাইভা না দিয়ে চলে যাচ্ছে। আমি ভাইভা দিতে গেলাম, শুধু কয়েকটি প্রশ্ন করেই বের করে দেওয়ার চিন্তা। তাদের মধ্যে কোনো সিরিয়াস ব্যাপার নেই। অনেকে এখানে শুনতে পাচ্ছে বিভিন্ন জনের সুপারিশ দেওয়া হয়েছে, সমাজসেবা কর্মকর্তা স্বজনপ্রীতি করছে, সেটি শুনেই তারা চলে গিয়েছে।

আরেক পরীক্ষার্থী রহিম ইসলাম বলেন, আমি অনার্স ১ম বর্ষে পড়াশোনা করছি। আমাকে যত প্রশ্ন করা হয়েছে সবগুলোরই উত্তর দিয়েছি। আমাকে মোট ১৬ থেকে ১৭টি প্রশ্ন করা হয়েছে। আমার সামনে রাজনৈতিক দলের নেতার একটি তালিকা নিয়েছে এবং সেই তালিকা জমাও নিয়েছে। তাহলে আমাদের এই সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মূল্য কোথায় থাকল। 

পরীক্ষার্থী মাহির মিলন বলেন, ভাইভার নামে নাটক সাজানোর প্রয়োজন ছিল না। তারা যেহেতু সিলেকশনই করবে, তাহলে এতগুলো সাধারণ পরীক্ষার্থীকে হয়রানি করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এখানে প্রতিটি মানুষ বুঝে গেছে, এগুলো সব দলীয়ভাবে সিলেকশন হবে। একজন মহিলা নেত্রী পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে বলল আমাদের তো সব সেট করা আছে, এটি শুধু ফর্মালিটি। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ বলেন, এখানে কোনো অনিয়ম দুর্নীতি করার সুযোগ নেই। আমরা কোনো অনিয়ম করিনি। 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কামরুজ্জামানকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

শাহজাহান ইসলাম লেলিন/আরকে