রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউলজানি এলাকায় একটি খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় অন্তত সাত গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, নারী ও শিশুসহ স্থানীয় বাসিন্দারা নৌকায়, সাঁতরে অথবা ২ থেকে ৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে যাওয়া বাঁশের সাঁকোটির কিছু অংশ এখনও পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে প্রবল ঝড় ও ঢেউয়ের আঘাতে সাঁকোটি ভেঙে পড়ে। এরপরও এটি মেরামত বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য নুরাল মোল্লা বলেন, সাঁকোটি অনেক পুরোনো হয়ে গিয়েছিল। প্রায় দুই মাস আগে ঝড় ও ঢেউয়ের ধাক্কায় এটি ভেঙে যায়। আমরা বারবার মেরামতের দাবি জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আপাতত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি নতুন বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
স্থানীয় কৃষক আজিবর ব্যাপারী, ছামাদ গাজী, পিন্টু মিয়া, হালিম মিয়া ও বিজয় শেখ জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার কারণে মাঠের ওপার থেকে ফসল আনা-নেওয়াসহ দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তারা দ্রুত একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা খাতুন, রোজিনা আক্তার ও রেনু খাতুন বলেন, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া এবং সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে এই সাঁকোই ছিল একমাত্র ভরসা। এখন অনেক দূর ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি খরচ হচ্ছে।
গৃহিণী শাহনাজ পারভিন বলেন, আমাদের কৃষিজমি নদীর ওপারে। সব সময় নৌকা পাওয়া যায় না। অনেক সময় বাধ্য হয়ে সাঁতরে পার হতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত একটি নিরাপদ সাঁকো বা ব্রিজ নির্মাণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল বলেন, স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আপাতত সেখানে একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরকে
