বিজ্ঞাপন

‘যে দেশ দেখার জন্য ছেলেরা শহীদ হলো, সেই কাঙ্ক্ষিত দেশ হয়নি’

‘যে দেশ দেখার জন্য ছেলেরা শহীদ হলো, সেই কাঙ্ক্ষিত দেশ হয়নি’

ছেলের মৃত্যুর পর চলে গেছে প্রায় দুই বছর। যে দেশ দেখার জন্য ছেলেসহ অন্যরা শহীদ হলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে সেই কাঙ্ক্ষিত দেশ হয়নি বলে আক্ষেপ করেন শহীদ সিরাজুল ইসলাম ব্যাপারীর (২৮) বাবা শফিকুল ইসলাম (৭১)।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার বাড্ডায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিরাজুল।

সিরাজুল ফরিদপুর সদরের ডিক্রির চর ইউনিয়নের তায়জদ্দিন মুন্সীর ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ও শিরিন আক্তার দম্পতির ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট। সিরাজুল বিবাহিত, তবে তার কোনো সন্তান নাই। ঢাকার বাড্ডায় একটি রিকশা গ্যারেজের যৌথ মালিক ছিলেন তিনি। মৃত্যুর পর ফরিদপুর শহরের ধলার মোড়ের পাশে স্থানীয় একটি গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শফিকুলের নিজ বাড়িতে তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘ছেলেরা তো আন্দোলন করছিল যে দেশকে ভালো করবে বইলা, সেরকম তো আমরা দেখতেছি না।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষ ও তার ছেলেসহ জুলাইয়ে যারা আন্দোলনে গিয়েছিল, তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘ভালো চলাফেরার জন্য বা ভালো দেশটা চলবে, সেই পদের তো কিছু দেখতেছি না। যেমন জনগণ রাত-বিরাতে হেঁটে যাবে, কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম হবে না। কোনো চাঁদাবাজি হবে না। একজন জোর-জুলুম করে আরেকজনের জমি দখল করে খাবে না। এরকম একটা ভালো অবস্থা, ভালো পরিবেশ, ভালো একটা দেশ চাইছিলাম আমরা। কো তা তো হইতেছে না।’

ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের কাছে আমার একটা আবেদন, আমার ছেলে যে এই আন্দোলনে মারা গেল, এর বিচার চাই। ওই আন্দোলনে অনেক গোলাগুলি করল, আমাদের অনেকেরই সন্তান মারা গেছে, সেটার বিচার চাই।’

সিরাজুলের বাবা ও মায়ের শারীরিক অবস্থাও তেমন স্বস্তিদায়ক নয়। বাবার হার্টে সমস্যা। মায়ের গলায় সমস্যা। মা বর্তমানে একটি অপারেশনের জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শফিকুল ইসলাম সরকারের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পেয়েছেন, যা থেকে তিনি প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা পান। এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে ২ লাখ ২০ হাজার, বিএনপি থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন। পাশাপাশি তার ছেলের বউ সরকার থেকে ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন। অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে পাওয়া ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর আর স্বামীর বাড়িতে আসেননি স্ত্রী। এখন বাবার বাড়িতেই থাকেন। তবে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে নিয়মিত মুঠোফোনে কথা বলেন তিনি।

অশ্রুসজল চোখে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি জানি, কোনো কিছুর বিনিময়ে আমার ছেলেকে আমি আর ফিরে পাব না। দেশের জন্য সে জীবন উৎসর্গ করেছে। ওই আন্দোলনে যে আদর্শ নিয়ে আমাদের সন্তানরা রক্ত দিয়েছে, সেই স্বপ্ন যদি আমরা পূরণ হতে দেখে যেতে না পারি, তাহলে মরেও স্বস্তি পাব না, সিরাজুলের বিদেহী আত্মাও শান্তি পাবে না।’

জহির হোসেন/এএমকে