বিজ্ঞাপন

মরণফাঁদে পরিণত দুই সেতু, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের বাসিন্দা

মরণফাঁদে পরিণত দুই সেতু, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের বাসিন্দা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের পশ্চিম সনমান্দী খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৩৫ বছর আগের দুটি সেতু দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুর রেলিং ভেঙে গেছে, কংক্রিট খসে বেরিয়ে এসেছে মরিচাধরা লোহার রড এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে প্রতিদিন ১০ গ্রামের প্রায় ২৭ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু দুটি ব্যবহার করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অলিপুরা-সনমান্দী সড়ক ও মারবদী কবরস্থানের সামনে পশ্চিম সনমান্দী খালের ওপর সেতু দুটি নির্মাণ করে। এরপর আর কোনো ধরনের সংস্কার হয়নি। বর্তমানে সেতু দুটি সনমান্দী, ছনকান্দা, বৈদ্যারকান্দি, মারবদী, কান্দাপাড়া, সাজালেরকান্দীসহ আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। প্রতিদিন অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি অসংখ্য পথচারী সেতু দুটি ব্যবহার করেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর বিভিন্ন স্থানের রেলিং ভেঙে খালে পড়ে গেছে। কংক্রিটের আস্তরণ খসে বেরিয়ে এসেছে মরিচাধরা লোহার রড। কোথাও কোথাও বড় ফাটলও দেখা দিয়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় সেতু কেঁপে ওঠে। ভাঙা রেলিংয়ের পাশ দিয়ে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতু দুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও স্থায়ী সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও অটোরিকশাচালকেরা কয়েক দফা নিজেদের অর্থায়নে ভাঙা অংশ মেরামত করেছেন। তবে সেই উদ্যোগ স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।

পশ্চিম সনমান্দী গ্রামের বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ বলেন, এই দুই সেতু দিয়ে প্রতিদিন ১০ গ্রামের প্রায় ২৭ হাজার মানুষ চলাচল করেন। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

অটোরিকশাচালক মালেক বলেন, দিনে কয়েকবার যাত্রী নিয়ে সেতু পার হতে হয়। সব সময় ভয় লাগে। আমরা নিজেরাই টাকা তুলে কয়েকবার মেরামত করেছি। কিন্তু কিছুদিন পর আবার আগের মতো হয়ে যায়।

সনমান্দী হাসান খান উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলে, প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে স্কুলে যাই। রেলিং ভাঙা থাকায় ভয় লাগে। আমরা দ্রুত নতুন সেতু চাই।

সনমান্দী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম টিক্কা বলেন, সেতু দুটি পুনর্নির্মাণের জন্য উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।

সোনারগাঁ উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতু দুটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রকল্প পরিচালকের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে। এর আগে রেলিং সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা রেলিং সংস্কারের পরিবর্তে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে সেই কাজে বাধা দেন।

মো. মীমরাজ হোসেন/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন