বিজ্ঞাপন

পটুয়াখালীতে কুকুর হত্যার ঘটনায় মামলা

পটুয়াখালীতে কুকুর হত্যার ঘটনায় মামলা

পটুয়াখালী সদরের আউলিয়াপুর ইউনিয়নে হাঁস খাওয়ার অপবাদে দুটি পোষা কুকুরকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরা খেজুরতলা স্ট্যান্ড এলাকায় দুটি কুকুরকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মোটা কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নজরে আসে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি কুকুরকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এক ব্যক্তি মোটা গাছের গুঁড়ির মতো লাঠি দিয়ে কুকুর দুটির মাথায় বেধড়ক পেটাচ্ছেন। এ সময় পাশে আরও একজনকে সহযোগিতা করতে দেখা যায়। রশিতে বাঁধা কুকুর দুটি প্রাণ বাঁচানোর জন্য ছটফট করে করুণ চিৎকার করছিল। একপর্যায়ে নির্মম পিটুনিতে মাথার মগজ বেরিয়ে যাওয়ায় কুকুর দুটি গুরুতর আহত হয়ে ধুঁকতে থাকে। পরে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

পোষা কুকুর দুটির মালিক চায়ের দোকানি জাহাঙ্গীর প্যাদা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমি যহন ভাত খাইতাম তার অর্ধেকটা রাখতাম কুকুরদের জন্য! আমরা কুকুর পালি বইলা লোকজন দোকানে আইতে চাইতোনা অনেকে। বলতো গন্ধ আসে, তবুও আমি ওদের অবহেলা করিনাই। গত চার বছর ধরে ওদের পালি, ভ্যাক্সিনও করানো আছে যাতে কোনো মানুষের ক্ষয়-ক্ষতি না করতে পারে। মনজু হাওলাদারের হাঁস কামড়াইছে নাকি কোন কুকুরে। কিন্তু সে সময় আমার কুকুর পাশের বাড়িতে ঘুমাইয়া আছিল। এরপর তারা আমার কাছে আইসা হাঁসের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩ হাজার টাকা দাবি করে। আমার কাছে এত টাকা না থাকায় তা দিতে পারিনি। এরপর মিথ্যা অপবাদ দিয়া চোঁখের সামনে মনজু ও জহির আমার কুকুর দুটিকে রশিতে বাইন্ধা পিটাইয়া মারছে,আমি কিছু কইতে পারি নাই তাদের ভয়ে।’

ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত দুই আসামি মনজু ও জহির। তাই এ বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় দক্ষিণ বাদুরা এলাকার মঞ্জু হাওলাদার (৫০) ও জহির হাওলাদারকে (৪৫) আসামি করা হয়েছে। ২০১৯ সালের প্রাণিকল্যাণ আইনের ৭(২) ধারা ও দণ্ডবিধির ৪২৮ ধারায় মামলাটি করা হয়। মামলাটির নম্বর সিআর-১১৩৯/২০২৬।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মাধ্যমে ঘটনাটি আমাদের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই করে প্রাণীর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতার অভিযোগে আইনিভাবে মামলাটি দায়ের হয়েছে।

মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইমরান ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রাণীর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা আমরা কোনোভাবেই মানতে পারি না। আইন অনুযায়ী এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে, আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন। আশা করছি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক মামলার দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এ ঘটনায় প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/এএমকে

বিজ্ঞাপন