রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার শিহাব মৃধার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আমানত ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি ও সড়ক অবরোধ করেছেন প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগীরা। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এরপর পোস্ট অফিসের সামনের সড়ক প্রায় ১৫ মিনিট অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তারা প্রধান ডাকঘরে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তাদের টাকা ফেরত চান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. জাকির হোসেন, নাসিমা বেগম, মো. সেলিম, রাজবাড়ী মহিলা পরিষদের সেক্রেটারি ক্রিস্টানো মারিও রেখা, রাবেয়া, নাসরিন, জাহানারা ও শরিফসহ অন্যান্যরা। কর্মসূচিতে অর্ধশতাধিক গ্রাহক অংশ নেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে মেয়াদি সঞ্চয় হিসাব খুলতে গেলে ডাকঘরের কর্মকর্তারা তাদের লেটার রাইটার শিহাব মৃধার কাছে পাঠাতেন। শিহাব বিভিন্ন সময়ে সাদা স্লিপের মাধ্যমে ৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকার বেশি গ্রহণ করলেও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তা ডাকঘরের কোষাগারে জমা দেননি। পরে সঞ্চয়পত্রের বই দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করে আত্মগোপনে চলে যান।
বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে গ্রাহকরা ডাকঘরে গিয়ে জানতে পারেন, তাদের নামে কোনো সঞ্চয় হিসাবই খোলা হয়নি। এরপর কয়েক দফা টাকা ফেরতের দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী রাবেয়া বলেন, দুই লাখ টাকা মেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য জমা দিতে গেলে পোস্ট অফিসের কর্মকর্তারা আমাকে শিহাবের কাছে পাঠান। তিনি টাকা নিয়ে একটি সাদা স্লিপ দেন এবং তিন দিন পর বই নিতে বলেন। পরে গিয়ে তাকে আর পাইনি। এখন আমার টাকাও নেই, বইও নেই।
আরেক গ্রাহক মো. সেলিম বলেন, মানুষ বিশ্বাস করে পোস্ট অফিসে টাকা রাখে। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানে যদি এভাবে আমানতের টাকা আত্মসাৎ হয়, তাহলে মানুষ কাকে বিশ্বাস করবে? এ ঘটনার সঙ্গে ডাকঘরের কিছু কর্মকর্তারও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।
গ্রাহক নাসরিন বলেন, আমি দুই লাখ টাকা জমা দিয়েছি। এখন সেই টাকার কোনো হদিস নেই। আমি আমার কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাই।
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা গেছে, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা সাদা স্লিপের মাধ্যমে প্রায় ৭০ জন গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই, ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহ এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে কুষ্টিয়া সার্কেল ও খুলনা ডিভিশন অফিস থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মো. শামীম আহমেদ বলেন, কুষ্টিয়া সার্কেল ও খুলনা ডিভিশন অফিস থেকে গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরএআর
