মেহেরপুরের গাংনী পৌর শহরের পৃথক তিনটি স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের ছবি সম্বলিত কুশপুতুল বৈদ্যুতিক তারে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই দিনে এনসিপির নির্ধারিত পথসভাস্থলের অদূরে সবজিভর্তি ব্যাগের ভেতর থেকে বোমা সদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে, মুক্তিযোদ্ধা ভবন সংলগ্ন এলাকায় এবং র্যাব ক্যাম্পের অদূরে বৈদ্যুতিক তারে ঝুলন্ত কুশপুত্তলিকা দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে।
কুশপুত্তলিকাগুলোতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সার্জিস আলমের ছবি ব্যবহার করা হয়। এগুলোর গায়ে লেখা ছিল, ‘তরুণ সমাজকে ললিপপ হাতে ধরিয়ে দেশ নিল রসাতলে। এদের প্রতিহত করুন, এদের ঘৃণা করুন।’
এদিকে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাংনী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এনসিপির পথসভাস্থলের অদূরে হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে সবজিভর্তি একটি ব্যাগের ভেতর থেকে বোমা সদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, সকালে হাঁটতে বের হয়ে তারা কুশপুতুলগুলো দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সেলিম বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
সোমবার বিকেলে গাংনী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এনসিপির একটি পথসভা ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ঘটনাকে ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক সৃষ্টি কিংবা জনমনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক ও মেহেরপুর জেলা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাকিল আহমাদ বলেন, গাংনীতে এনসিপির পদযাত্রাকে ঘিরে ব্যাপক জনসমাগমের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে একটি দুষ্কৃতকারী চক্র মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি ও কর্মসূচি ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমাদের ধারণা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। কুশপুতুলগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং বোমা সদৃশ বস্তুটিও জব্দ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
আরকে
