বিজ্ঞাপন

রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলগেটে দুর্ঘটনা : তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলগেটে দুর্ঘটনা : তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ওয়াগনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাস, মাহেন্দ্র ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা লেভেল ক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা গেটম্যানসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার আবু হেনা মোস্তফা পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে পাকশী বিভাগের বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. শাকিলকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও), বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ (ডিইএন-১), বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই ক্যারেজ) এবং বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই লোকো)। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাকশী রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী কমান্ড্যান্ট মো. ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন। আহতদের খোঁজখবর নেওয়া এবং নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চলন্ত অবস্থায় কোনোভাবে ওয়াগনের সংযোগ খুলে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

রাজবাড়ী রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, খানখানাপুর রেলগেটের দুর্ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এর আগে রোববার (২৬ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২ জন নিহত অন্তত ২৩ জন আহত হন। নিহতরা হলেন- বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মালেক শেখ (৪৫) এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় ব্র্যাকপাড়া এলাকার মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী (৫০)। তারা দুজনই মাহেন্দ্রের যাত্রী ছিলেন।

জানা যায়, ফরিদপুর পাওয়ার প্ল্যান্টে তেল সরবরাহ শেষে ৩০টি ওয়াগন নিয়ে একটি তেলবাহী ট্রেন রাজবাড়ীর দিকে ফিরছিল। খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রমের আগে ট্রেনটির পেছনের ছয়টি ওয়াগনের সংযোগকারী চেইন ছিঁড়ে মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ট্রেনটি সম্পূর্ণ চলে গেছে মনে করে গেটম্যান রেলগেট খুলে দিলে গোয়ালন্দ মোড় থেকে দৌলতদিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী বাস, গোয়ালন্দমুখী একটি মাহেন্দ্র এবং বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে গড়িয়ে আসা ওয়াগনের সঙ্গে তিনটি যানবাহনের সংঘর্ষ হয়।

দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মালেক শেখ ও মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর মৃত্যু হয়। আরও দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ভর্তি করা হয়েছে।

মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এসএইচএ