নিজেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পরিচয় দিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করেছিলেন এক ব্যক্তি। মামলার আসামি কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, এমন নানা প্রশ্ন তুলে একপর্যায়ে ওসির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন তিনি। পরে ওসি ফোন কেটে দিলে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে করা হয়েছে ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড।
এমন ঘটনা ঘটেছে রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মো. জহিরুল ইসলাম (৩২)। তিনি উপজেলার বাঘবের ইউনিয়নের পূর্ব বহুলী গ্রামের বাসিন্দা। আগে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করলেও বর্তমানে তিনি কিছু করেন না।
উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলামের সরকারি মুঠোফোনে একটি কল আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে পুলিশের আইজিপি পরিচয় দিয়ে একটি মামলার আসামি কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে তিনি ওসির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, কলারের কথাবার্তায় তার সন্দেহ হয়। কারণ প্রয়োজন হলে আইজিপি সরাসরি থানার ওসিকে নয়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিক প্রযুক্তির সহায়তায় কলারের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে জহিরুল ইসলামকে আটক করা হয়।
পরে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোশারফ হোসাইন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৭০ ধারায় সরকারি কর্মকর্তার ছদ্মবেশ ধারনের অপরাধে জহিরুল ইসলামকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১-এর ৭০(১) ধারায় ভয়ভীতি ও প্রতারণামূলকভাবে টেলিযোগাযোগ ব্যবহারের অপরাধে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। সাজা পর্যায়ক্রমে ভোগ করতে হবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও নিজেকে আইজিপি পরিচয় দিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করায় প্রচলিত আইনে তাকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের বরাতে ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, জহিরুল ইসলাম একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। প্রায় দুই বছর আগে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করলে এলাকাবাসী তাকে ধরে মারধর করে পুলিশের হাতে দিয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি কিছু সময় ভালো থাকেন, আবার কিছু সময় এলোমেলো আচরণ করেন।
সাখাওয়াত সুমন/এএমকে
