কাউকে আগামীতে কোনো জুলুম করতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
তিনি বলেছেন, আমরা যেখানে যাই, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একটা কথা বললেই অনেকের শরীর হালকা হয়ে যায়, পেট খারাপ হয়ে যায়, মাথা নষ্ট হয়ে যায়, মাথায় গ্যাস্ট্রিক উঠে যায়। এই হলো অবস্থা। আমরা একটা কথা বলি- বিএনপির ভাইয়েরা মনে রাখবেন, আমরা সবসময় মাথায় রাখি আপনি আমার জুলাইয়ের সহযোদ্ধা। ১৭ বছর আপনিও জুলুমের শিকার ছিলেন, কিন্তু আপনারা এইটাও মনে রাখবেন, এই দোহাই দিয়ে আপনি যদি এখন জুলুম করতে চান, আপনাকে প্রতিহত করার জন্য বাংলাদেশে হাজার হাজার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নেমে আসবে ইনশাআল্লাহ। কাউকে আগামীতে কোনো জুলুম করতে দেওয়া হবে না।
সোমবার (২৭জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল বাসস্ট্যান্ডে বিচার, সংস্কার ও দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত জুলাই জাগরণ অনুষ্ঠানে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আজকে আমরা দেখি থানা থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের ইউএনও অফিস, ভূমি অফিস, হাসপাতাল, প্রত্যেকটা জায়গা বিএনপির অল্প কিছু নেতাকর্মী দখলের সকল পাঁয়তারা চালাচ্ছে। সরকারি অফিস আদালত এইগুলা তো জনগণের সেবার জায়গা। সেই জায়গায় যদি এই ধরণের দলীয় অপব্যবহার শুরু হয়। বিএনপির যারা ভালো ভাইয়েরা আছেন, মনে রাখবেন যদি সিস্টেম নষ্ট হয়ে যায়। হাসপাতালের সেবা শেষ হয়ে যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান ধ্বংস হয়ে যায়। আপনার সন্তানেরাও এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাবে না।
সারজিস আলম বলেন, আমরা প্রত্যেকটা জায়গায় ঘুরি। মনে করেন তাড়াইল উপজেলা বিএনপির ৫০ হাজার মানুষ আছে। খোঁজ নিয়ে দেখেন, সর্বোচ্চ ১০০টা লোক খারাপ। এরাই লুটপাট করে, এরাই চাঁদাবাজি করে, থানা দখল করে, হাসপাতালের ওষুধের টাকা মেরে খায়, রোগীদের খাবারের টাকা মেরে খায়। ভূমি অফিসে গিয়ে দখল করার চেষ্টা করে। এই ১০০টা লোকের দায় কেন বিএনপির বাকি ৪৯৯০০ লোক নেবে। এটা তো কোনোদিন যৌক্তিক হতে পারে না।
তিনি বলেন, আমরা বিএনপির বাকি ভাইদের বলতে চাই, আপনারা তাদের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর উঁচু করুন। কারণ, যদি এই ১০০টা লোকের জন্য বিএনপির অবস্থান পচে যায়, আপনি সমর্থক হিসেবে, ভোটার হিসেবে আগামীতে মুখ তুলে মানুষের সামনে তাকাইতে পারবেন না। আওয়ামী লীগের সময়ে যারা লুটেরা ছিল, খুনি ছিল, গুম-খুনে ছিল, স্বৈরাচার ছিল, তাদের জন্য আজ নিরাপরাধ ভোটার যারা ছিল তাদের কেউ কিন্তু মাথা উঁচু করে তাকাতে পারতেছে না।
সারজিস আলম বলেন, আমাদের প্রশাসনের অনেক ভাই আছেন, ইউএনও অফিসে আছেন, পুলিশে আছেন, সরকারি অফিসে আছেন। আমরা শুধু আপনাদের একটা কথা বলি, যদি সিস্টেমটা নষ্ট হয়ে যায়, যদি খারাপ মানুষের হাতে ক্ষমতা চলে যায়, পুলিশ যদি তাদের কথায় উঠবস করে, প্রশাসন যদি দলীয় প্রশাসন হয়ে যায়, তাহলে এই সিস্টেমটা ধ্বংস হয়ে গেলে আপনারা কেউ কিন্তু এটা থেকে পার পাবেন না। আওয়ামী লীগ এভাবে সিস্টেমগুলোকে ধ্বংস করে ছিল। যেদিন আওয়ামী লীগ পালিয়েছে, যেই পুলিশরা, প্রশাসনের লোকেরা, সরকারি সচিবরা আওয়ামী লীগকে নগ্নভাবে সহযোগিতা করেছে, একজনও কিন্তু দেশে থাকতে পারে নাই। আমরা চাই না আগামীতে প্রশাসনের কেউ তার সন্তানের সামনে মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারুক, আমরা চাই না প্রশাসনের কারো লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে আসুক। আমরা চাই না, প্রশাসনকে মানুষ ধিক্কার দিক। এজন্য প্রশাসনকে আমরা পেশাদার প্রশাসন হিসেবে চাই, সম্মানের প্রশাসন হিসেবে চাই।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক ড.আতিক মুজাহিদ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম হোসেন, ফয়সাল প্রিন্সসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা করিমগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ সদরে অনুষ্ঠিত দুটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
আরএআর
