বিজ্ঞাপন

এক সপ্তাহের ব্যবধানে বগুড়ায় ৫০ টাকা বেড়েছে সবজির দাম, নাকাল ক্রেতারা

এক সপ্তাহের ব্যবধানে বগুড়ায় ৫০ টাকা বেড়েছে সবজির দাম, নাকাল ক্রেতারা

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বগুড়ার কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটল, বেগুন, ঢেঁড়স ও কাঁচা মরিচসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে বগুড়া শহরের রাজাবাজার ও ফতেহ আলী বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং আলু ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি পটল বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে। বর্তমানে সেই পটল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। একইভাবে ঢেঁড়সের দাম এক সপ্তাহ আগে ছিল প্রায় ৪০ টাকা কেজি, যা বেড়ে এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। কাঁচা মরিচের দামও বেড়ে খুচরা বাজারে ২৫০ টাকা কেজিতে উঠেছে; পাইকারি বাজারে এর দাম মণপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বেগুনের দামও এক সপ্তাহ আগের ৬০ থেকে ৭০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজাবাজারের ব্যবসায়ী দুলাল মণ্ডল বলেন, টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। আগে একটি ক্ষেতে যেখানে ১০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যেত, এখন সেখানে মাত্র দুই মণ পর্যন্ত ফলন হচ্ছে। চাহিদা আগের মতোই থাকলেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আগামী ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সবজি বাজারে উঠতে শুরু করবে, তখন সরবরাহ বাড়লে ধীরে ধীরে দামও কমে আসতে পারে।

আরেক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মুক্তার হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ আগেও বাজারের পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার সবজির ক্ষেত পানিতে ডুবে যাওয়ায় ফলন ব্যাপকভাবে কমেছে। আগে যেখানে একটি হাটে ২০ মণ সবজি আসত, এখন সেখানে মাত্র পাঁচ মণ আসছে। তবে শসার দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সবজি কিনতে আসা ক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, দুই তিন দিনের ব্যবধানেই সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। আগে যে বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে কিনতাম, এখন তা প্রায় ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। আগে যে টাকায় পুরো বাজার করা যেত, এখন সেই টাকায় অর্ধেক বাজারও করা যাচ্ছে না।'

আরেক ক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, সবজির দাম অনেক চড়া। আগে যে পরিমাণ সবজি কিনতাম, এখন তার চেয়ে অনেক কম কিনতে হচ্ছে। খাওয়ার প্রয়োজন তো আছেই, তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমেছে, ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে নতুন ফসল বাজারে উঠতে শুরু করলে সরবরাহ বাড়বে এবং ধীরে ধীরে সবজির দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে আশা করছেন তারা।

আব্দুল মোমিন/আরএআর