সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিনের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ অমান্য এবং আদালত ও বিচারক সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়ে তা লিখিতভাবে আদালতকে জানাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার (২৭ জুলাই) সিরাজগঞ্জ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের (শাহজাদপুর চৌকি) বিচারক মো. শানু আকন্দ এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে বিচারাধীন একটি মামলায় গত ২৪ মে ইউএনও সাবরিনা শারমিনকে আদালতের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীরের কাজ বন্ধ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ইউএনও আদালতের ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে তিনি গত ২১ জুন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলেন। এ ঘটনায় আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে একটি ভায়োলেশন মামলা করা হয়।
মামলার শুনানিতে আদালত উল্লেখ করেন, ইউএনও আদালতে দাখিল করা লিখিত আপত্তিতে বিচারক, আদালত ও আদালতের আদেশ সম্পর্কে আপত্তিকর, কুৎসাজনক ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। এসব বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি উপস্থিত হননি। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
আদেশে বিচারক আরও বলেন, একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে আদালত ও বিচারকের প্রতি এ ধরনের আচরণ পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের পরিপন্থি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আদালতের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আদালতকে লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত একই সঙ্গে ইউএনওর লিখিত আপত্তির কয়েকটি অংশ রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আগামী ৩০ জুলাই মামলায় চার্জ বা বিবেচ্য বিষয় গঠন, বাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং একতরফা আদেশের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনওল সাবরিনা শারমিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এটি আদালতের বিচারাধীন বিষয়, তাই আমার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।
জানা গেছে, শাহজাদপুর চৌকি আদালতের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ ইউএনও আদালতের আদেশ অমান্য করে বন্ধ করে রেখেছেন। এছাড়াও বিষয়টি তিনি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিতের নিকট অভিযোগও করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব বরাবর মৌখিক অভিযোগ উত্থাপন করেন। গত ৬ জুলাই মন্ত্রাণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে শাহজাদপুর চৌকি আদালতে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ কালে ভূমির পরিমাণ ও মালিকানা সম্পর্কিত তথ্য সরেজমিনে তদন্তপূর্বক পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেন।
নাজমুল হাসান/আরএআর
