বিজ্ঞাপন

বিদেশযাত্রায় ‘হেপাটাইটিস’ বাধা, ভেঙে যাচ্ছে প্রবাসের স্বপ্ন

বিদেশযাত্রায় ‘হেপাটাইটিস’ বাধা, ভেঙে যাচ্ছে প্রবাসের স্বপ্ন

কর্মসংস্থানের আশায় প্রতি বছর সিলেট থেকে হাজারো মানুষ বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু ভিসা, চাকরির চুক্তি ও সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হেপাটাইটিস বি বা সি ধরা পড়ায় শেষ মুহূর্তে থেমে যাচ্ছে অনেকের বিদেশযাত্রা। অধিকাংশই আগে জানতেন না, তাদের শরীরে নীরবে বাসা বেঁধেছে এই ভাইরাস। ফলে কেউ হারাচ্ছেন চাকরির সুযোগ, কেউ পিছিয়ে দিচ্ছেন বিদেশযাত্রা, আবার কেউ চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আক্রান্তদের অধিকাংশই আগে জানতেন না যে তারা হেপাটাইটিসে আক্রান্ত। বিদেশগামী মেডিকেল পরীক্ষা, রক্তদান কিংবা অন্য কোনো রোগের চিকিৎসার সময় প্রথমবারের মতো তাদের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, হেপাটাইটিস বি ও সি দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ ছাড়াই শরীরে অবস্থান করতে পারে। ফলে রোগটি নীরবে লিভারের ক্ষতি করতে থাকে। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে একপর্যায়ে এটি লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলিউর কিংবা লিভার ক্যানসারের মতো জটিল রোগে পরিণত হতে পারে।

মেডিকেল রিপোর্টেই থেমে যায় বিদেশযাত্রা

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন—উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) এই ছয়টি দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা জিসিসি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে সম্পন্ন করা হয়। ওই পরীক্ষায় হেপাটাইটিস বি বা সি শনাক্ত হলে অনেকের বিদেশযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা (ছদ্মনাম) ছালাম আহমদ কয়েক মাস আগে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। ভিসা, চাকরির চুক্তি ও অন্যান্য কাগজপত্র হাতে পেলেও মেডিকেল পরীক্ষায় হেপাটাইটিস বি শনাক্ত হয়। এরপর তার বিদেশযাত্রা স্থগিত হয়ে যায়।

ছালাম বলেন, কখনও ভাবিনি আমার শরীরে এমন রোগ আছে। বিদেশে যাওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর মেডিকেল রিপোর্টে বিষয়টি জানতে পারি। এখন চিকিৎসা নিচ্ছি, কিন্তু কবে যেতে পারব জানি না।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান সিলেটের বালাগঞ্জের আরেক যুবক। কাতারে চাকরির সুযোগ পেলেও মেডিকেল পরীক্ষায় হেপাটাইটিস ‘সি’ শনাক্ত হওয়ায় নতুন করে চিকিৎসা শুরু করতে হয়েছে। এতে বিদেশযাত্রাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিদেশ যাওয়ার আগে জানেন না ঝুঁকি

বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতিতে পাসপোর্ট, ভিসা, চাকরির চুক্তি ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও অনেক কর্মী নিজেদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আগাম সচেতন থাকেন না। বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি ও সি সম্পর্কে ধারণার ঘাটতির কারণে অনেকেই জানেন না, শরীরে ভাইরাস থাকলেও দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, বিদেশগামী কর্মীদের শুধু নির্ধারিত মেডিকেলের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী আগেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের স্ক্রিনিং ও টিকাদানের আওতায় আনা গেলে রোগ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

অনুমোদিত চেক আপ সেন্টারে প্রথম ধরা পড়ে অনেকের রোগ

বিদেশগামীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় হেপাটাইটিস শনাক্ত হওয়ার ঘটনা কতটা ঘটছে এবং রোগী শনাক্ত হলে কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় সেই বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন জিসিসি অনুমোদিত একটি মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

জিসিসি অনুমোদিত মেডিনোভা মেডিকেল সেন্টারের পাবলিক রিলেশনস অফিসার (পিআরও) সুহেল আহমদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়মিত আমাদের এখানে করা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কারো শরীরে হেপাটাইটিস বি বা সি শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী রিপোর্ট দেওয়া হয়। এরপর তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে বলা হয়। কেউ যদি মেডিকেল চেক-আপে হেপাটাইটিস পজিটিভ হয়, সে সাধারণত বিদেশে যেতে পারে না। আবার কেউ যদি ট্রিটমেন্ট নিয়ে সুস্থ হয় এবং পরবর্তীতে পরীক্ষায় হেপাটাইটিস নেগেটিভ হয়, তবে তার আর বিদেশ যেতে বাধা থাকবে না। এরকম পজিটিভ থেকে নেগেটিভ হওয়ার নজিরও আছে। মূলত  অনেকেই মেডিকেল পরীক্ষা করতে এসে প্রথমবারের মতো জানতে পারেন যে তারা হেপাটাইটিসে আক্রান্ত।

আপনার পরিচালিত সেন্টারে মাসে গড়ে কতজন বিদেশগামী ব্যক্তি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটির নির্দিষ্ট কোনো গড় পরিসংখ্যান দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আসা মানুষের সংখ্যা বিদেশগমন, ভিসা অনুমোদন এবং বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় আমাদের সেন্টারেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সংখ্যা কমেছে। বর্তমানে মাসে গড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন পরীক্ষা করাচ্ছেন। শুধু আমাদের সেন্টারেই নয়, জিসিসি অনুমোদিত অন্যান্য মেডিকেল সেন্টারেও একই ধরনের প্রভাব পড়েছে। আবার বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা বাড়লে কোনো কোনো দিনই এর চেয়ে বেশি মানুষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আসেন।

মেডিকেল রিপোর্ট ঘিরে দালালচক্রের তৎপরতার অভিযোগ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা নির্ধারিত নিয়ম ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রটোকল মেনেই রিপোর্ট দিয়ে থাকি। তবে বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া যায়, কিছু জায়গায় মেডিকেল পরীক্ষায় আনফিট হওয়া ব্যক্তিদেরও ফিট সনদ দেওয়া হয়। এ ধরনের অনিয়মের কারণে পুরো ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় বিদেশগামী কোনো কর্মীর হেপাটাইটিস পজিটিভ শনাক্ত হলে তিনি বিষয়টি সহজভাবে নিতে চান না। পরে বিভিন্ন দালাল বা সুবিধাভোগী চক্রের মাধ্যমে রিপোর্ট পরিবর্তন করে নেগেটিভ করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের প্রবণতা শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় না, বরং বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করে।

ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে মিলছে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু নঈম ঢাকা পোস্টকে বলেন, হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগীরা নিয়মিত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। বহির্বিভাগে রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যাদের হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন হয়, তাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, অনেক বিদেশগামী মেডিকেল পরীক্ষায় হেপাটাইটিস ধরা পড়ার পর হাসপাতালে আসেন। আবার অনেকের ক্ষেত্রে অন্য রোগের চিকিৎসার সময় বা লিভারের জটিলতা দেখা দেওয়ার পর রোগটি শনাক্ত হয়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের আগেভাগে পরীক্ষা করানো এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।

অধিকাংশ রোগীই আসছেন অগ্রসর পর্যায়ে

রোগীর সংখ্যা, চিকিৎসার ধরন এবং হেপাটাইটিসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে। তাদের ভাষ্য, বেশিরভাগ রোগীই হাসপাতালে আসেন রোগের জটিল পর্যায়ে।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহিবুর রহমান জুয়েল ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের হাসপাতালে সপ্তাহে একদিন হেপাটোলজি আউটডোর পরিচালিত হয়। ওই দিন গড়ে প্রায় ৫০ জন রোগী দেখানো হয়। এর মধ্যে ১০ থেকে ১২ জনের শরীরে হেপাটাইটিস বি বা সি শনাক্ত হয়। রোগের অবস্থা বিবেচনায় কিছু রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আমরা অনেক রোগীকেই প্রাথমিক পর্যায়ে পাই না। অন্য রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা স্ক্রিনিংয়ের সময় অনেকের হেপাটাইটিস ধরা পড়ে। অধিকাংশ রোগীই আমাদের কাছে আসেন রোগের অগ্রসর পর্যায়ে, ফলে চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে যায়।

ডা. জুয়েল বলেন, আমাদের হাসপাতালে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যেসব রোগীর চিকিৎসা এখানে সম্ভব হয় না, তাদের ঢাকার বিশেষায়িত লিভার হাসপাতালে রেফার করা হয়। ইনডোরে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫০ জন হেপাটাইটিস ও লিভারের জটিল রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বছরে ৫০০ জনের বেশি জটিল রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপকভাবে স্ক্রিনিং করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নিশ্চিত করা গেলে নতুন সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

জেলা পর্যায়ে নেই আক্রান্তের মোট পরিসংখ্যান

জেলায় হেপাটাইটিসের প্রকৃত চিত্র, সরকারি পর্যায়ে স্ক্রিনিং ব্যবস্থা এবং আক্রান্তের পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানতে চাইলে সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. স্বপ্নীল সৌরভ রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যায়ে বর্তমানে হেপাটাইটিস বি ও সি শনাক্তের (স্ক্রিনিং) ব্যবস্থা নেই। মূলত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন এবং কয়েকটি বেসরকারি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে এসব পরীক্ষা করা হয়। তাই জেলা-ভিত্তিক আক্রান্তের নির্ভুল কোনো পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে নেই।

‘ন্যাশনাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে হেপাটাইটিস বি-এর প্রাদুর্ভাব ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং হেপাটাইটিস সি-এর প্রাদুর্ভাব ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে এ রোগে মৃত্যুর পৃথক কোনো জেলা-ভিত্তিক পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করা হয় না।’

ডা. স্বপ্নীল সৌরভ রায় আরও জানান, হেপাটাইটিস বি ও সি-তে আক্রান্ত অনেকের শরীরে দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে তারা স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই অজান্তেই ভাইরাসটি বহন করেন। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস বি-এর টিকা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

টিকাদান ও সচেতনতায় গুরুত্ব সিটি করপোরেশনের

হেপাটাইটিস প্রতিরোধে টিকাদান ও জনসচেতনতা কার্যক্রমও পরিচালনা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন। নগর পর্যায়ে নেওয়া এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নগরের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, হেপাটাইটিসকে আমরা এখনো অনেক ক্ষেত্রেই ‘নীরব রোগ’ হিসেবে দেখি। কারণ অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে তারা পরীক্ষা করান না এবং অজান্তেই ভাইরাস বহন করেন। অথচ রোগটি ধীরে ধীরে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই শুধু অসুস্থ হলেই নয়, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদেরও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নগর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা তুলনামূলক সহজলভ্য হলেও সচেতনতার ঘাটতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকেই হেপাটাইটিসের সংক্রমণের পথ, প্রতিরোধ কিংবা টিকা সম্পর্কে জানেন না। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানুষকে স্বেচ্ছায় স্ক্রিনিংয়ে উৎসাহিত করা জরুরি। ইতোমধ্যে সরকার হেপাটাইটিস বি-এর টিকাকে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় এনেছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে নিয়মিত এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। গত এক বছরে আমাদের বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রায় ১৭ হাজার মানুষকে হেপাটাইটিস বি-এর টিকা দেওয়া হয়েছে। সময়মতো টিকাদান ও স্ক্রিনিং নিশ্চিত করা গেলে নতুন সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

ডা. জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, হেপাটাইটিস প্রতিরোধ শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের একার দায়িত্ব নয়। নিরাপদ খাদ্য, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী এবং জনগণ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিসের সার্বিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ এবং প্রতিরোধে সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মাহবুবুল আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, হেপাটাইটিস কোনো একক রোগ নয়, এটি বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসজনিত লিভারের প্রদাহের সমষ্টিগত নাম। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি ও ই প্রতিটির সংক্রমণের ধরন ও জটিলতা আলাদা। এর মধ্যে বি ও সি সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ। কারণ আক্রান্ত অনেকেই বছরের পর বছর কোনো উপসর্গ ছাড়াই ভাইরাস বহন করেন। একপর্যায়ে এটি লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলিউর কিংবা লিভার ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।

তিনি বলেন, হেপাটাইটিস ‘ই' সাধারণত দূষিত পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই নিরাপদ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

ডা. মাহবুবুল আলম আরও বলেন, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, একবার ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জ ব্যবহার, জীবাণুমুক্ত ক্ষুর-ব্লেড ও অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম ব্যবহার, নিরাপদ পানি এবং হেপাটাইটিসের টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের আওতায় এনে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন