বিজ্ঞাপন

সরকার প্রতিটি স্থানে দলীয় নেতাকর্মী নিয়োগ দিয়ে রেখেছে : আখতার হোসেন

সরকার প্রতিটি স্থানে দলীয় নেতাকর্মী নিয়োগ দিয়ে রেখেছে : আখতার হোসেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি স্থানে তাদের দলীয় নেতাকর্মী নিয়োগ দিয়ে রেখেছে। সংবিধান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জেলা পরিষদসহ বড় বড় জায়গাতে বিএনপি তাদের নিজের লোক বসিয়েছে। এভাবে যদি সব স্থানে নিজেদের লোক বসানো হয় তাহলে সেটা সবার আগে বাংলাদেশ আর থাকে না, সেটা হয়ে যায় সবার আগে বিএনপি। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজার শহীদ হাসান চত্বরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে রাজনৈতিক সংস্কার, নিরপেক্ষ নির্বাচন, গণভোট বাস্তবায়ন, প্রশাসনের দলীয়করণের অভিযোগ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতির নানা বিষয় তুলে ধরেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশকে আমরা সুদীর্ঘ অতীত থেকে দেখে আসছি। আমাদের ওপর দিয়ে একটি দীর্ঘ সময় অতিক্রম হয়েছে। আমরা কোনো কথা বলতে পারিনি। কেউ কথা বলার সাহস দেখালে মামলা দিয়ে জেলখানায় নিয়ে গিয়ে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বন্দি করে রাখা হতো। এমন এক দুঃশাসন তৈরি করে রেখেছিল আওয়ামী লীগ। সে দুঃশাসনের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষকে থাকতে হয়েছে। তারা বলেছিল, ‘ভারতকে যা দিয়েছি, তা আজীবন মনে রাখবে।’ এমন একটি কঠিন সময় বাংলাদেশের মানুষকে অতিক্রম করতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই বিপ্লবে বাংলাদেশের লাখো-কোটি মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। এই বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য আপনাদের চুয়াডাঙ্গার অনেকেই জীবন দিয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। আপনাদের এখানে যে জুলাই স্তম্ভ আছে, তা দেখলে আওয়ামী লীগের মাথা গরম হয়ে যায়। এর কোনো জীবন নেই, কিন্তু এটি মানুষের মাথায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এই স্তম্ভের লেখা কথাগুলোই আওয়ামী লীগের সিংহাসনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে আমরা প্রতিটি মানুষের কাছ থেকে শুনেছি, রাষ্ট্রের সংস্কার প্রয়োজন। বাংলাদেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়, তবে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সংবিধান ও প্রশাসনের সংস্কার করতে হবে।

পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ। এছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ডা. মাহমুদা মিতু, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সরওয়ার তুষার এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার হোসেন ছোটন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলী রুশদী মজনু, যুগ্ম আহ্বায়ক রাফিউল কাদির রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল পারভেজসহ এনসিপি ও জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আফজালুল হক/আরকে