বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরায় ৩২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

সাতক্ষীরায় ৩২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার করা প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে শ্যামনগরের নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাদক ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। 

বিজিবি জানায়, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১১ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ সীমান্তে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ৫১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৭ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।

ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৪০৬ বোতল বিভিন্ন ধরনের মদ, ১৫ হাজার ৭৮ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ১৮ হাজার ৬৫৪টি ইয়াবা, ৭৫ হাজার ৭৬৬ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি, ৩ দশমিক ৮১ কেজি গাঁজা, ২১ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৭টি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, এক হাজার ৪৭০ পাতা সুখি বড়ি, ১৫ হাজার ৭৪৬টি মাদকজাতীয় ট্যাবলেট, ১ কেজি হেরোইন, ৮ বোতল (১০০ মিলিলিটার) ও ৬ বোতল (৫০ মিলিলিটার) এলএসডি এবং ২ দশমিক ৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস)। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিজিবি বদ্ধপরিকর। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে এ সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের সদস্যদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন এবং সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ্ মো. আশরাফুল আলাম, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান জাহান কনকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক, বেসামরিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। 

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার হওয়া প্রাণঘাতী মাদক ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

ইব্রাহিম খলিল/আরএআর

বিজ্ঞাপন