খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে ৫২ জনই বাগেরহাট জেলার। তবে একই সময়ে বিভাগে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গু-সংক্রান্ত দৈনিক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ভর্তি হওয়া ৮৫ জন রোগীর মধ্যে বাগেরহাটে সর্বোচ্চ ৫২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ১৭ জন, খুলনা জেলা হাসপাতালে ১৩ জন, মেহেরপুরে ২ জন এবং কুষ্টিয়ায় ১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় নতুন কোনো ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হননি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ১ হাজার ৯২৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৭১২ জন। এ পর্যন্ত বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে।
বর্তমানে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ১৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে খুলনার হাসপাতালগুলোতে সর্বোচ্চ ৮৬ জন ভর্তি রয়েছে। যার মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৩ জন, খুলনা জেলায় ৩৩ জন। এ ছাড়া বাগেরহাটের ৫৫ জন, যশোরে ২৬ জন, মাগুরায় ৪ জন, মেহেরপুরে ৫ জন, সাতক্ষীরায় ৩ জন, কুষ্টিয়া ২ এবং ঝিনাইদহ ও নড়াইলে একজন করে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ বছর ডেঙ্গুর জটিলতার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে মোট ২৪ জন রোগীকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক থাকার এবং বাসাবাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে ‘ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি ও হালনাগাদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র প্রদান, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং মশক নিধন কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রতিদিন দুই দফায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনা, যাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ কম থাকে।
প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় বুধবার (২৯ জুলাই) থেকে নতুন উদ্যমে এবং দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন খুলনা শাখার আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. পরিতোশ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. গোলাম মাসুদ, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম, খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আমানুল ইসলাম ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ।
স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন খুলনা শাখার সদস্য সচিব ও সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন।
ডেঙ্গুবিষয়ক কী-নোট পেপার উপস্থাপন করেন খুলনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. মো. নজরুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল কবির ও ডা. মোহাম্মদ কবীর উল ইসলাম। ধন্যবাদ জানান অপসোনিন ফার্মা লি.-এর ডেপুটি সেলস ম্যানেজার অসিম কুমার ভৌমিক।
মোহাম্মদ মিলন/এএমকে
