বিজ্ঞাপন

তথ্যমন্ত্রী

জনগণের ওপরে যারা ক্ষমতা প্রদর্শন করবে তারা আমাদের শত্রু

জনগণের ওপরে যারা ক্ষমতা প্রদর্শন করবে তারা আমাদের শত্রু

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জনগণের ওপরে যারা ক্ষমতা প্রদর্শন করবে তারা আমাদের সরকারের শত্রু, দলের শত্রু, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার শত্রু।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর স্বনির্ভর খালের পাশে উপজেলা কৃষকদলের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাটির ওপরে দাঁড়িয়ে একমাত্র ক্ষমতা দেখাতে পারে জনগণ। আমাদের দেশের এত ক্ষমতার মালিক শেখ হাসিনার শেষ পর্যন্ত বিড়ালের মতো পালিয়ে যেতে হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী এত বড় একটি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হয়েও যে সমস্ত অল্পবয়স্ক তরুণ ছাত্রদের তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিল, সেই তেলাপোকাদের কারণে শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে, তাদের দাবি মানতে বাধ্য হয়েছে। অতএব, যখন-তখন জনগণকে ছোট করা, তেলাপোকা মনে করা, ছাড়পোকা মনে করা—এইসব ঔদ্ধত্য যেই রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা দেখায়, তারা দলের শত্রু, জনগণের শত্রু। এটা আমি অতীতে সাবধান করেছি, বর্তমানেও সাবধান করে দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ধানের শীষের হাতে যখন ক্ষমতা আসে আর শহীদ জিয়া পরিবারের হাতে যখন শাসনক্ষমতার দায়িত্ব আসে, তখন সেই ক্ষমতার কোনো অপপ্রয়োগ সর্বোচ্চ মহলে হয় না। কিন্তু নিচের পর্যায়ে আমরা যদি কেউ ভুলভ্রান্তি করি, সেই দায়িত্ব কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের ঘাড়ে যায়। তাই বিভ্রান্ত নেতাকর্মীদের ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আমাদের দল একটা বড় পরিবার, আমাদের নানান রকমের নেতাকর্মী ও অঙ্গসংগঠন আছে। আমরা সবাই মিলে ধান চাষ করি, আবার কাটার মৌসুমে সবাই মিলে ধান কাটি। কিন্তু আমাদের পরিবারের কিছু সদস্য ধান চাষের সময়ও থাকে না, আবার ধান কাটার মৌসুমেও থাকে না। ধান চাষের মৌসুমেও ফুটবল খেলে, ধান কাটার মৌসুমেও ফুটবল খেলে। তারপরও পরিবারে এ রকম দায়িত্বহীন কিছু সদস্য থাকবে। এদের চিনে রাখতে হবে। এরা যাতে কোনো রকম অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত না হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। ভালো ব্যবহার, সৌজন্যতা করতে হবে, কিন্তু দূরবীনের মতো চোখ রাখতে হবে। অপরাধ করার সঙ্গে সঙ্গেই আইনের আওতায় আনতে হবে। দলীয় পরিচয়ে যাতে কেউ রক্ষা না পায়।

উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির সদস্যসচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ আবুল হোসেন মিয়া, সদস্যসচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, জেলা বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম কাজল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শরীফ শফিকুর রহমান স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান খোকন এবং কৃষকদলের জেলা উত্তরের সদস্যসচিব ভিপি মো. সেলিম হোসেন।

একই দিন তথ্যমন্ত্রী বরিশালের গৌরনদীতে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী তিনটি পৃথক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা ও ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করেন।

পরে দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-২০২৬-এর অর্থায়নে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে তথ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে ক্রীড়াসামগ্রী ও বৃক্ষের চারা বিতরণ করেন। একই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচিতে জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করেন।

আরিফ হোসেন/আরএআর