বিজ্ঞাপন

কুমিল্লায় ৫২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

কুমিল্লায় ৫২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

কুমিল্লায় সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় প্রায় ৫২ কোটি টাকার মদ-গাঁজা, ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত বিজিবির কুমিল্লা সেক্টরের সদর দপ্তরে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির সরাইল রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, কুমিল্লা সেক্টরের ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এজাজ আহম্মেদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মফিজ উদ্দিন এবং র‍্যাব-১১, সিপিসি-২-এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলমসহ অন্যরা।

বিজিবি কুমিল্লা সেক্টরের ১০ ব্যাটালিয়নের ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়নের ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।

ধ্বংসকৃত এসব মাদকের মধ্যে ছিল ৩৪ হাজার ২৩৫  বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল ভারতীয় বিয়ার ক্যান, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল ভারতীয় হুইস্কি, ২৪ হাজার ৯৮১ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৪৮ পিস ভারতীয় ইয়াবা, সাড়ে ২৪ লিটার খোলা মদ, ১৩ হাজার ৩৩৮ পিস আইপি ইনজেকশন, ১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭২ পিস সেনেগ্রা ট্যাবলেট, ৬ লাখ ৭০ হাজার ৪০ পিস নিমোসোলাইড ট্যাবলেট, ৮ লাখ ৬২ হাজার ৩৫০ পিস সিপ্রোহিপটাডিল ট্যাবলেট, ৪ লাখ ৪২ হাজার ১০১ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ২৩৮ বোতল হার্বেচ রেট, ৪ বোতল ফরমুলা সিরাপ, ১৯ হাজার ২১০ পিস ডেক্সোন ট্যাবলেট, ২ হাজার ২৮০ বোতল ল্যাব জিনসেন, ২লাখ ৫৫ হাজার ৬০০ পিস সিনিক জেড, ৭০০ পিস ডাজিগ্রা, ৩৩৫ পিস রুটারেক, ৩০ হাজার ৫ প্যাকেট সিগারেট, ২৪০ প্যাকেট জর্দ্দা ও ৪০ প্যাকেট বিড়ি। 

ধ্বংসকৃত এসব মাদকের বাজার মূল্য ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিবির সরাইল রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে মাদক ঠেলে দিয়ে আমাদের দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা বর্ডার গার্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি মাদক যাতে কোনোভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে। সীমান্ত এলাকায় প্রচুর বন্ধুর পথ থাকায় মাদক কারবারিরা সহজেই বিজিবির আসা-যাওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে যায়, ফলে তারা সেসব মাদকদ্রব্য ফেলে দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

তিনি আরও বলেন, মাদক কতটা হিংস্র হতে পারে তা সবাই দেখেছি। কিছুদিন আগে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি তার বাবা ও মাকে হত্যা করেছে। যারা মাদক সেবন করে তাদের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না বলে যেকোনো কাজ তারা করে ফেলতে দ্বিধা করে না। তাই সমাজের সবাইকে মাদক রোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে।

আরিফ আজগর/আরএআর

বিজ্ঞাপন