ইলিশের ভরা মৌসুমেও দেশের অন্যতম বৃহৎ ইলিশের পাইকারি বাজার চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে সরবরাহ কমেছে কয়েকগুণ। এতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে রুপালি ইলিশের দাম। সরবরাহ কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও আড়তের শ্রমিকরাও। তারই প্রভাবে বেড়েছে ইলিশের ডিমের দামেও। এক কেজি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকায়। দাম শুনেই অনেক ক্রেতা ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , ইলিশের ডিম সংরক্ষণ ও মাছগুলো লবণ দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াজাত করে প্রায় এক বছর সংরক্ষণের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। তবে মাছ নরম হলেও ডিম তরতাজা থাকে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার মাছ অনেক কম। ফলে বেশির ভাগ আড়তই বন্ধ হয়ে পড়েছে। তাই আমদানি কম হওয়ায় ডিমের দাম বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আড়তগুলোর কর্মচারীরা নরম ইলিশ কেটে লবণ দিয়ে নোনা ইলিশ তৈরি করছেন। মাছের ডিমগুলো আলাদা করে প্লাস্টিকের বক্সে করে সংরক্ষণ করছেন। তবে ঘাটে ১০ থেকে ১৫টি লোনা ইলিশ ও ডিমের আড়ত থাকলেও মাত্র দুটি আড়ত চালু আছে। তাও আবার ইলিশ সরবরাহ কম থাকায় অল্প কিছু পরিমাণ মাছ কাটতে দেখা গেছে। ফলে ডিমের দাম চড়া হওয়ার ক্রেতাদের খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
চাঁদপুর মাঝঘাটে ইলিশের ডিম কিনতে আসা মনির হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, ডিমের দাম অনেক চড়া। আমি কিনতে চেয়েছিলাম। এক কেজি ডিম ৬ হাজার টাকা চেয়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি কেনা কঠিন।
আরেক ক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, ইলিশ মাছের অনেক দাম। মাছের অতিরিক্ত দাম হওয়ায় কিনতে পারি না। বাসার সবাই ইলিশের ডিম অনেক পছন্দ করে। তাই চেয়েছিলাম ইলিশের ডিম কিনতে কিন্তু ডিমেরও অনেক দাম। এক কেজি ইলিশের ডিমের দাম ৬ হাজার টাকা। এতো টাকা দিয়ে ডিম খাওয়ার সামর্থ্য আমাদের নাই। তাই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি।
ইলিশের আড়তদার সম্রাট বলেন, মাছ ঘাটে ইলিশের ডিমের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তুলনামূলকভাবে ঘাটে ইলিশ মাছ কম সরবরাহ হওয়ায় ডিমের দাম একটু বেশি।নোনা ইলিশের মণ হচ্ছে ৭০ হাজার টাকা। দাম বেশি হওয়ায় ইলিশের ডিমের কেজি ৬ থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।
আরেক আড়তদার নুরে আলম বলেন, ঘাটে ইলিশ একেবারে কম আসে। যার কারণে ডিমযুক্ত ইলিশও কম আসে। যার কারণে আমরা এখন প্রতি সপ্তাহে একবার ইলিশ কাটি। এক মণ ইলিশ কাটলে ডিম হয় ৪-৫ কেজি। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি ইলিশের ডিম সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।
লোনা ইলিশ বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, ইলিশের সংকটের কারণে এখন আর আগের মতো ডিম নেই। চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতাদের ডিম দিতে পারছি না। তাই দাম বেশি।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শবেবরাত সরকার বলেন, চাহিদা অনুযায়ী মাছ কম। যার কারণে ডিমের দাম চড়া। বর্তমানে ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকায় এক কেজি ডিম পাইকারি মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। মাছের আমদানি কমে যাওয়ায় ডিমের দাম বেড়ে গেছে।
আনোয়ারুল হক/এএমকে
