বিজ্ঞাপন

রাজবাড়ীতে বিআরটিসির বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

রাজবাড়ীতে বিআরটিসির বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

রাজবাড়ীতে বিআরটিসির স্থায়ী বাস ডিপো ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষে রাজবাড়ী পৌরসভার শ্রীপুর (পৌর) মৌজায় অব্যবহৃত ২৭.৮৭ শতাংশ জমি বিআরটিসির অনুকূলে বরাদ্দ বা লীজ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা (অতিরিক্ত সচিব) স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানানো হয়েছে, বিআরটিসি একটি রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপদ ও সহজলভ্য গণপরিবহন সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের অংশ হিসেবে শিগগিরই বিআরটিসির বহরে ৩৪০টি অত্যাধুনিক সিএনজি এসি বাস যুক্ত হবে। পাশাপাশি ২০০টি ইলেকট্রিক এসি বাস, যার মধ্যে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাসও থাকবে, সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব বাস পরিচালনার জন্য বিভিন্ন জেলায় চার্জিং স্টেশন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলায় পরিবহন ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে রাজবাড়ীতে বিআরটিসির নিজস্ব জমি না থাকায় বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন সম্ভব হয়নি। ফলে এ অঞ্চলের বাসগুলো অস্থায়ীভাবে ফরিদপুরে ভাড়া করা জায়গায় রাখা হচ্ছে এবং রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলার অনেক বেকার যুবক-যুবতী ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিআরটিসির মতে, রাজবাড়ীতে বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে রাজবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী জেলার জনগণ উন্নত পরিবহন সেবা পাবেন। একইসঙ্গে বেকার যুবক-যুবতীরা ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবেন, যা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এ উদ্দেশে বিআরটিসির ২৯৯তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় রাজবাড়ী জেলায় বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাজবাড়ী শহরের শ্রীপুর (পৌর) মৌজার জেএল নং-১৫৬-এর বিএস দাগ নং-১০৬৯ ও ১০৭৬ এবং বিএস খতিয়ান নং-১১০২-এর আওতাধীন ২৭.৮৭ শতাংশ জমি বর্তমানে অব্যবহৃত রয়েছে। ওই জমি বিআরটিসির অনুকূলে বরাদ্দ বা লীজ দিলে সেখানে ‘বিআরটিসি রাজবাড়ী বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ স্থাপন করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক, রাজবাড়ীর মাধ্যমে রাজবাড়ী পৌরসভার প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বিআরটিসি।

চিঠি প্রাপ্তির পর রাজবাড়ী জেলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) 'রাজবাড়ী বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র' স্থাপনের লক্ষ্যে জমি বরাদ্দ/লীজ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রাজবাড়ীর স্থানীয় সরকার শাখা থেকে জারি করা এক পত্রে জানানো হয়েছে, রাজবাড়ী পৌরসভার শ্রীপুর (পৌর) মৌজার জেএল নং-১৫৬-এর বিএস দাগ নং-১০৬৯ ও ১০৭৬, বিএস খতিয়ান নং-১১০২-এর আওতাধীন প্রায় ২৭.৮৭ শতাংশ জমি বিআরটিসির অনুকূলে বরাদ্দ/লীজ প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত পত্রটি গত ২২ জুলাই তারিখে জারি করা হয়। 

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে রাজবাড়ী পৌরসভার প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ী পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক (উপসচিব) কল্যাণ চৌধুরী বলেন, বিআরটিসি রাজবাড়ীতে বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য পৌরসভার কাছে জমি বরাদ্দ বা লিজ চেয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমতির জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে শিগগিরই একটি পত্র পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

সচেতন মহলের অভিমত, রাজবাড়ীতে বিআরটিসির স্থায়ী বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপিত হলে জেলার পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। একইসঙ্গে স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী জেলার বেকার যুবক-যুবতীরা ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারবেন। তবে তারা দ্রুত জমি বরাদ্দসহ প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।

মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এএমকে