বিজ্ঞাপন

মাদরাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতন

অভিযুক্তকে গণপিটুনি থেকে বাঁচাতে গিয়ে ৮ পুলিশ সদস্য আহত

অভিযুক্তকে গণপিটুনি থেকে বাঁচাতে গিয়ে ৮ পুলিশ সদস্য আহত

কুমিল্লার বরুড়ায় মাদরাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আতিক উল্লাহ নামে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে গণপিটুনিতে থেকে বাঁচাতে গিয়ে বরুড়া থানা পুলিশের ৮ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বরুড়া উপজেলার আড্ডা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বরুড়া থানা পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় সরকার ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বরুড়া উপজেলার আড্ডা এলাকার ফয়জুনে মদিনা মডেল মাদরাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক আতিক উল্লাহর বিরুদ্ধে। অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদরাসা ও আড্ডা বাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বরুড়া থানা পুলিশের একটি দল।

ভুক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থী জানায়, রাতের খাবারের পর অন্যরা ঘুমিয়ে গেলে তাকে ও আরেক শিক্ষার্থীকে অফিসকক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে অপর শিক্ষার্থী চলে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক তার সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বলেন।

পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে হেফাজতে নেওয়ার পর উত্তেজিত জনতার কয়েকজন তাকে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। এতে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিশন চৌধুরীসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে নিরাপদে ভ্যানে তুলে বরুড়া থানায় নিয়ে যায়।

আটক আতিক উল্লাহ উপজেলার শশাইয়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত সঞ্জয় সরকার বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করতে গেলে উত্তেজিত জনতার রোষানলে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

আরিফ আজগর/আরকে