নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও এলাকায় নতুন একটি গ্যাসকূপের খননকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। কূপটি সফলভাবে খনন ও ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) সম্পন্ন হলে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্প এর আওতায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) খননকাজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে পুরোদমে ড্রিলিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাপেক্স।
বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ অঞ্চলে ১৯৭৬ সালে প্রথম গ্যাসকূপের সন্ধান পাওয়া যায়। ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় কূপ খনন করা হলেও ওই দুটি কূপে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে ২০১৩ সালে সুন্দলপুর-২ কূপে গ্যাসের সন্ধান মেলে। ২০১৮ সালে কূপটির ওয়ার্কওভার শেষে বর্তমানে সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এর আগে নোয়াখালীতে সুন্দলপুর-১, সুন্দলপুর-২ ও সুন্দলপুর-৩ নামে তিনটি গ্যাসকূপ খনন করা হয়। বর্তমানে সুন্দলপুর-১ ও সুন্দলপুর-৩ থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে সুন্দলপুর-৩ কূপের ওয়ার্কওভার শেষ হলে সেখান থেকেও পুনরায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, সুন্দলপুর-২ কূপ থেকে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
নতুন সুন্দলপুর-৪ কূপে প্রত্যাশিত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া গেলে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পাশাপাশি সেনবাগ ও আশপাশের এলাকাতেও ভবিষ্যতে গ্যাস সংযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল মেহেদী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা গ্যাস সংকটে ভুগছি। আমাদের এলাকায় গ্যাসের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পাশাপাশি সেনবাগ ও নবীপুরের মানুষের জন্যও গ্যাসের ব্যবস্থা করা হলে সেটি হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা রওশন আরা বেগম বলেন, আমরা অনেক বছর ধরে শুনে আসছি আমাদের এলাকায় গ্যাস আছে। এবার বাস্তবে খননকাজ শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে নতুন আশা তৈরি হয়েছে। সরকার যদি স্থানীয় পর্যায়েও গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করে, তাহলে এলাকার মানুষ ও শিল্প-কারখানার জন্য এটি বড় আশীর্বাদ হবে। আমরা অনেক উপকৃত হব।
প্রকল্পের ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান বলেন, প্রাথমিকভাবে কূপটি ১ হাজার ৫৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। খননকাজ শেষ করতে প্রায় ৪৫ দিন এবং পরবর্তী ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) সম্পন্ন করতে আরও ১৫ দিন সময় লাগবে। পরীক্ষার ফলাফলের পরই কূপটিতে গ্যাসের প্রকৃত মজুতের পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, কূপটির খনন ও ডিএসটি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে বলে আমরা আশা করছি।
শাহরিয়ার উদ্দিন অরুপ/এনটি
