বিজ্ঞাপন

সৎ মাকে হত্যার ১০ বছর পর এবার নিজের মাকেও হত্যা

সৎ মাকে হত্যার ১০ বছর পর এবার নিজের মাকেও হত্যা

ফরিদপুর শহরে মাকে খুন করে এক ছেলে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রহমান মোল্লাডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মায়ের নাম সামেলা বেগম (৬৫)। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা মুদি ব্যবসায়ী মৃত আকবর শেখের স্ত্রী।

জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে এলাকাবাসী সামেলা বেগমের মাথায় গুরুতর জখমসহ মরদেহ বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামেলা বেগমকে তার ছেলে রাহিম শেখ (৩২) ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন শেখ জানান, রাহিম শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং নেশার টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধে জড়াতেন। ঘটনার পেছনে নেশার টাকার বিরোধই কারণ হতে পারে বলে তিনি জানান।

এলাকাবাসী জানায়, ২০১৬ সালে রাহিম শেখ তার সৎ মাকেও একইভাবে হত্যা করেছিলেন। এজন্য তাকে বেশ কয়েক বছর জেলে থাকতে হয়।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাহিম শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধে জড়াতেন।

ফরিদপুর পৌরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ আলাওয়াল হোসেন বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা। একজন সন্তানের হাতে নিজের মায়ের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, আমরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানান, ছেলে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়েছে—এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ওই নারীকে মাথায় আঘাত করে থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি। পরিবারের দাবি, রাহিম শেখ মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নেশাগ্রস্ত ছিলেন। ঘাতকের ঘরে সিগারেটের প্যাকেট, ফয়েল পেপার, মোমবাতিসহ মাদক সেবনের আলামত পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘাতককে গ্রেপ্তারে কাজ করছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

জহির হোসেন/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন