জামালপুরে চকলেটের লোভ দেখিয়ে ১০ বছরের এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে হারুন অর রশিদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে তাকে আটক করা হয়।
জানা গেছে, বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়ি হামিদপুর এলাকার ইউসুফ খানের ছেলে হারুন অর রশিদ তার বাড়ির পাশে ভুক্তভোগী শিশুকে চকলেট কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তার ঘরে নিয়ে যান। ভুক্তভোগী শিশুর মা ওই শিশুকে খুঁজতে গেলে মাঠে খেলাতে থাকা অন্য শিশুরা বলে হারুন অর রশিদ তাকে তার বাড়িতে নিয়ে গেছে।
শিশুটির মা তখন হারুনের বাড়িতে গেলে হারুন বলে শিশুটিকে সে নিয়ে আসেনি। তারপর শিশুর মা হারুনের কথা না শুনে তার ঘরে ঢুকে তার মেয়েকে বিবস্ত্র অবস্থায় শুয়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন আসে। শিশুটির বাবা ব্যবসার কাজে ঢাকায় থাকার কারণে বুধবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাননি। পরে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন এবং ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত হারুন অর রশিদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, আমি কাল বাড়িতে রান্না করছিলাম। তখন আমার প্রতিবন্ধী মেয়ে বাড়ির পাশে অন্য বাচ্চাদের সাথে খেলছিল। হঠাৎ করেই দেখতে না পেয়ে মেয়েকে খুঁজতে শুরু করি। বাচ্চারা বলে আমার মেয়েকে হারুন ডেকে তার বাড়িতে নিয়ে গেছে। হারুন একটা নেশাখোর মানুষ। পরে আমি হারুনের বাড়িতে গেলে হারুন বলে, সে আমার মেয়েকে আনেনি। আমি তার কথা না শুনে তার ঘরে যাই। গিয়ে দেখি হারুন আমার মেয়ে ক্ষতি করেছে। আমি এর এমন বিচার চাই, যাতে আর কোনো মেয়েকে ধর্ষণ করার আগে হারুনের মতো মানুষের বুক কেঁপে উঠে।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শামীম বলেন, এমন একটা মেয়ে আমাদের এখানে এসেছে। তার চিকিৎসা চলছে।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি একটু বাইরে আছি। যে এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে আপডেট বলতে পারবে। পরে সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অভিযুক্তকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
বাঁধন হোসেন/এসএইচএ
