বিজ্ঞাপন

সুদের টাকার জন্য বিধবার গাভী নিয়ে গেলেন দাদন ব্যবসায়ী

সুদের টাকার জন্য বিধবার গাভী নিয়ে গেলেন দাদন ব্যবসায়ী

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সুদের টাকার দাবিতে এক অসহায় বিধবার গাভী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দাদন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। মূল টাকা পরিশোধের পরেও জোরপূর্বক গাভী নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি  লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী রোকেয়া বেওয়া।

অভিযুক্তরা হলেন- শ্রীপুর গ্রামের মৃত মীর আলী সরকারের ছেলে আবু হোসেন সরকার (৫৫) ও তার স্ত্রী সপ্না বেগম রুবিনা (৪৫)। এছাড়া ভুক্তভোগী রোকেয়া বেওয়া ওই গ্রামের মৃত রজ্জব আলী শেখের স্ত্রী।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে রোকেয়া বেওয়ার মেয়ে অজেদা বেগম এই দাদন ব্যবসায়ীর কাছে প্রতি মৌসুমে অর্থাৎ ৬ মাস অন্তর অন্তর ১২ হাজার টাকা সুদে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। পরবর্তী আড়াই বছরে এই ৫০ হাজার টাকার সুদ বাবদ অতিরিক্ত ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করে এই নিরীহ পরিবার। এক পর্যায়ে উপায় না পেয়ে গাভী বিক্রি করে দাদনের মূল ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তারা। এসময় দাদনের ১২ হাজার টাকা মাফ চান ঋণ গ্রহিতারা। 

কিন্তু ওই সময়ে দাদন ব্যবসায়ীরা ১২ হাজার টাকা মওকুফ করলেও কিছুদিন পর সেই ১২ হাজার টাকা সুদ দাবি করেন তারা। এতে ভুক্তভোগীরা আর্থিকভাবে অক্ষমের কথা জানালে অভিযুক্তরা সেটি না মেনে আরও ৭০ হাজার টাকা দাবি করে বসেন এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হয়।

এসবের এক পর্যায়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে অভিযুক্ত আবু হোসেন ও তার স্ত্রী  সপ্না বেগম আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রোকেয়া বেওয়ার বাড়িতে গিয়ে গোয়ালঘর থেকে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ৬ মাসের একটি গাভীন গাই গরু জোরপূর্বক বের করে নিয়ে যান। ঘটনার পর বিধবা স্থানীয়ভাবে গাভী উদ্ধারের নানারকম চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে সন্ধ্যার দিকে তাদের স্বামী-স্ত্রীর নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই দাদন ব্যবসায়ীর বাড়িতে গরু আনতে গেলে হুমকি-ধামকির দেওয়া হচ্ছে ভুক্তভোগী বিধবা রোকেয়াকে। তিনি গরু নেওয়ার চেষ্টা করলে তাতে বাধা দেন দাদন ব্যবসায়ী স্বপ্না। এসময় স্বপ্নাকে বলতে শোনা যায় গরু নিতে হলে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আয়।

ভুক্তভোগী রোকেয়া বেওয়া জানান, ৫০ হাজার টাকার সুদ ৬০ হাজার টাকা দিছি। সেসময়ে ১২ হাজার টাকা দিতে না পেয়ে মাফ চেয়েছি। তারা ওই সময় কিছু বলেনি। কিন্তু এতদিন পর এখন সুদের ওই ১২ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না পেয়ে জোর করে আজ সকালে আমার গাভীন গরু (গাভী) বের করে নিয়ে গেছে। তার বাড়িতে কয়েকবার গরু আনতে গেছি কিন্তু দেয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্তরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, সন্ধ্যায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাসুম বিল্লাহ/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন