তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার হওয়া আইফোনসহ ৩৫টি হারানো মোবাইল ফোন এবং বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৫০ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে মাগুরা জেলা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও প্রতারণার অর্থ সংশ্লিষ্ট মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খায়রুল হাসান (পিপিএম), সহকারী পুলিশ সুপার (শালিখা সার্কেল) নিশাত আল নাহিয়ানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তারা।
মাগুরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শারমিন খাতুন বলেন, চলতি বছরের ২০ মার্চ আমার ইনফিনিক্স স্মার্টফোনটি বাড়ি থেকে হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ফোনটির কোনো সন্ধান পাইনি। পরে মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমার হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেছে। আজ ফোনটি হাতে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। এ জন্য বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।
মাগুরা সদর উপজেলার সত্যজিৎপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, আমার সিম্ফনি ব্র্যান্ডের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার পর ভেবেছিলাম, আর ফিরে পাব না। আত্মীয়-স্বজনের পরামর্শে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয় যে, আমার হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে সেটি গ্রহণ করতে বলা হয়। আজ এসপি অফিসে এসে আমার মোবাইল ফোনটি ফিরে পেয়েছি। আমি ভীষণ আনন্দিত। হারিয়ে যাওয়া ফোন উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম) বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ব্যক্তিগত তথ্য, আর্থিক লেনদেন, প্রয়োজনীয় নথি ও নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণের অন্যতম মাধ্যম। তাই মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে মাগুরা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার, অনলাইনভিত্তিক আর্থিক প্রতারণা প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও জনগণকে প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত সেবা দিতে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। সময়ের সঙ্গে সাইবার অপরাধের ধরন ও কৌশল পরিবর্তিত হচ্ছে। এসব অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবিলায় দক্ষ জনবল, আধুনিক প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে জেলা পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলো নিরলসভাবে কাজ করছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাইবার অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তাছিন জামান/এনটি
