পাবনায় মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পাবনার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— দিলালপুর কফিলউদ্দিনপাড়ার মৃত ইমরান হোসেনের ছেলে মো. আফনান আহম্মেদ আবির (২১), শালগাড়িয়া মালিগাছার মো. শরিফুল ইসলামের ছেলে মো. নাজমুস সাদাত নাফি (১৯), আমিনপুর থানার দুর্গাপুর গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সানজিদ হাসান সুপ্ত (১৯), দিলালপুর কফিলউদ্দিনপাড়ার মো. লোকমান হোসেনের ছেলে মো. রাকিব হোসেন (১৯) এবং দিলালপুর ফায়ার সার্ভিস এলাকার মো. উজ্জ্বল শেখের ছেলে মো. বিশাল শেখ সাদ (২২)।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম ইন্দ্রজিৎ দাস রায় দেব (১৫)। তিনি পাবনার মহিম চন্দ্র জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশ জানায়, গত ২৩ জুলাই পারিবারিক কারণে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ইন্দ্রজিৎ। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ২৯ জুলাই পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
একই দিন রাত আনুমানিক ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে খুঁজে পেয়ে পরিবারের একজন সদস্য ইন্দ্রজিৎকে বাড়িতে নিয়ে আসার পথে পাবনা সদর উপজেলার দিলালপুর বেলতলা সড়কে আহম্মেদ রফিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একদল সন্ত্রাসী রিকশার গতিরোধ করে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে অপহরণকারীরা তার স্বজনদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়।
খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পাবনা সদর থানা যৌথভাবে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা ইন্দ্রজিৎকে ঘটনাস্থলেই ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সময় ঘটনাস্থল থেকে অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পাবনা ডিবির ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ইন্দ্রজিতের মা রিতা রাণী দাস রায় বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের করার পর ডিবি পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
এসএইচএ
