কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গভীর রাতে পদ্মা নদীতে স্পিডবোটের ট্রায়াল দেওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে শরিফুল ইসলাম ববি (৩৫) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার গোলাপনগর মনি পার্ক থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে পদ্মা নদীর চর দামুকদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ শরিফুল ইসলাম ববি ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত আলম খন্দকারের ছেলে। তিনি মনি পার্কের মালিক মনিরুল ইসলাম মনির ব্যক্তিগত সহযোগী ও দেহরক্ষী। ঘটনার সময় তিনি মনিরুল ইসলামের সঙ্গে স্পিডবোটে ছিলেন।
ঘটনাটি শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত প্রকাশ্যে না এলেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৫টার পর নৌ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এই ঘটনায় রাতেই গুলিবিদ্ধ শরিফুলকে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে মনিরুল ইসলাম মনি 'এমভি বোল্ট মেরিনার' নামে একটি উদ্ধারকারী স্পিডবোট কেনেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তিনি শরিফুল ইসলাম ববি, বাদশা ঢালিম ও রেজা মোল্লাকে নিয়ে স্পিডবোটটির ট্রায়াল দিতে নদীতে যান।
এ সময় দূর থেকে ৩টি স্পিডবোটে থাকা অন্তত ৩০ জন অস্ত্রধারীরা তাদের এগিয়ে না যাওয়ার সংকেত দেয় এবং কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে তারা সামনে এগোতে থাকলে দুর্বৃত্তরা স্পিডবোটটি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে শরিফুল গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া স্পিডবোটে থাকা আরও ৩ জন আহত হন বলে জানা গেছে।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, ভোর পৌনে ৫টার দিকে শরিফুলকে হাসপাতালে আনা হয়। একটি গুলি তার বাম হাত ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং আরেকটি গুলি বুকের বাম পাশের ওপরের অংশে লাগে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, হাসপাতালের ভর্তি নিবন্ধনে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির নাম পাওয়া গেলেও পরে তাকে ওয়ার্ডে পাওয়া যায়নি। জরুরি বিভাগের নিবন্ধনে আঘাতের কারণ হিসেবে গানশুট উল্লেখ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, তার শরীরে দুটি গুলি লেগেছিল। কারণ গুলির বের হওয়ার দুটি ক্ষত দেখা গেছে।
স্পিডবোটের চালক বাদশা ঢালিম বলেন, প্রথমে মনিরুল ইসলাম মনি স্পিডবোট চালাচ্ছিলেন। গুলিবর্ষণ শুরু হলে তিনি স্টিয়ারিং নিজের হাতে নেন এবং সবাইকে নিচু হয়ে থাকতে বলেন। এ সময় ভাঙা কাচে মনিরুল ইসলামের মাথা কেটে যায় এবং তার নিজের পায়েও গুলি লাগে। তিনি দাবি করেন, ৩টি স্পিডবোটে থাকা অস্ত্রধারীরা প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে গুলি চালায়।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনাটি নদীতে ঘটায় বিষয়টি নৌ পুলিশ তদন্ত করছে।
লক্ষীকুণ্ডা নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, স্পিডবোটটির গায়ে ১৫ থেকে ২০টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।
রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তিনি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গুলির চিহ্ন বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
রবিউল আলম ইভান/এমএমবি
