বিজ্ঞাপন

এখনো মোছেনি ক্ষত, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় চকরিয়ার বন্যা দুর্গতরা

এখনো মোছেনি ক্ষত, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় চকরিয়ার বন্যা দুর্গতরা

জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে চলতি বর্ষা মৌসুমের বন্যায় ঘরবাড়ি-ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীর কৃষক আবুল কালামের (৪৫)। বন্যার পানি ২০ দিন আগে নামলেও আবুল কালাম ভোলেননি সেই সময়। এখনো তার বসতভিটায় রয়ে গেছে প্রবল ঢলে সৃষ্ট ক্ষতের চিহ্ন।

আবুল কালাম বলেন, টানা তিন দিন পানিবন্দি ছিলাম, ঘরের ছোট শিশুদেরও অনাহারে থাকতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আর হতে চাই না।

গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে আবুল কালামসহ চকরিয়ার ২ হাজার ৪০০ বন্যার্ত পরিবারের মাঝে জাপানভিত্তিক দাতাসংস্থা জেটিআইয়ের সহযোগিতায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে দেশীয় উন্নয়ন সংস্থা মাল্টি সার্ভ ইন্টারন্যাশনাল (এমএসআই)।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মুমিনুল ইসলাম বলেন, এই সহযোগিতা দেখতে কম মনে হলেও আমাদের জন্য অনেক কিছু, সরকারসহ যেসব মহল আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ অন্তত তাদের মানবিকতার কারণে বন্যা পরিস্থিতির পর আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন স্বপ্ন দেখতে পারছি।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রেস সচিব ছাফওয়ানুল করিম। 

তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির শুরু থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়মিত খবরাখবর রেখেছেন। তিনি নিজেও এই এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। সরকারি-বেসকারি পর্যায়ের সমন্বিত সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্যা পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্থরা পুরোপুরি ক্ষতি কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে দাতা সংস্থার প্রতিনিধি গোলাম মুজতবা, এমএসআইয়ের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জুবায়ের, প্রকল্প সমন্বয়ক মোজাম্মেল হকসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

এমএসআইয়ের নির্বাহী পরিচালক জুবায়ের জানান, বন্যাদুর্গত এলাকা চকরিয়া, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়িতে প্রায় ৬০০০ হাজার মানুষকে জরুরি সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় এক মাসের জন্য খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য সক্ষমতা অনুযায়ী দাতা সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় বন্যাদুর্গত অঞ্চলে এই বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, জুলাইয়ের বন্যায় কক্সবাজার জেলার ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পরিবারের ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া উপজেলা। এই উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১১ হাজার ২৩১টি পরিবারের প্রায় ৭৫ হাজার ৫০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ইফতিয়াজ নুর নিশান/এনটি/এনএফ

বিজ্ঞাপন