বিজ্ঞাপন

মাত্র ১০০ টাকার জন্য ১৫ বছর পর পাওনাদারের দরজায় শমসের আলী

মাত্র ১০০ টাকার জন্য ১৫ বছর পর পাওনাদারের দরজায় শমসের আলী

আজকের এই চাকা ঘোরার যুগে, যেখানে সামান্য স্বার্থের জন্য মানুষ বড় বড় প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়, সেখানে সততার এক এক অনন্য নজির গড়ে তুললেন ৭৮ বছর বয়সি শমসের আলী। মাত্র ১০০ টাকা ঋণ পরিশোধ করতে তিনি পাড়ি দিলেন দীর্ঘ ৩৫ কিলোমিটারের বেশি পথ। ​ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার খড়মপুর গ্রামের।

​শুক্রবার সকালে ঘুম ভাঙার আগেই মজলিশপুর গ্রাম থেকে রওনা হন শমসের আলী। উদ্দেশ্য একটাই—পাওনাদার এম এন এইচ খাদেম দুলাল যেন বাড়ি ছেড়ে চলে না যান। কখনও হেঁটে, কখনও বা ছোট যানবাহনে চেপে ৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি পৌঁছান আখাউড়ায়।

​পাওনাদার খাদেম এয়ার সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী এম এন এইচ খাদেম দুলাল তখনও ঘুমিয়ে। বৃদ্ধ শমসের আলী তাকে বিরক্ত করেননি; ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন বারান্দায় বসে। অপেক্ষার ফাঁকে স্থানীয় কৌতূহলী মানুষদের শুনিয়েছেন ১৫ বছর আগের সেই ১০০ টাকার গল্প।

​শমসের আলী জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর আগে বিদেশ পাঠানো সংক্রান্ত এক লেনদেনের সময় ভুলবশত দুলাল খাদেমকে ১০০ টাকা কম দিয়েছিলেন তিনি। এরপর অনেক বছর কেটে গেলেও মনের ভেতর অপরাধবোধ তাড়া করে বেড়াত তাকে। কারো এক টাকা পাওনা রাখাও যে মারাত্মক দায়—এই অনুশোচনা থেকেই অবশেষে ছুটে আসা। ঢাকা প্রবাসী দুলাল খাদেম শুক্রবার গ্রামে ফেরেন খবর পেয়েই আর দেরি করেননি বৃদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, এক টাকা হোক আর ১০০ টাকা—কারো পাওনা শোধ করা তো আমাদের নৈতিক কর্তব্য। মনের বোঝা হালকা করতেই এতদিন পর ছুটে এসেছি।

​অবশেষে দুলাল খাদেমের ঘুম ভাঙলে তার হাতে ১৫ বছর আগের সেই ১০০ টাকা তুলে দেন শমসের আলী। ঘটনায় বিস্মিত ও অভিভূত হয়ে পড়েন ব্যবসায়ী দুলাল খাদেম।

দুলাল খাদেম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রবাসে গিয়েছেন। এত মানুষের মধ্যে ১৫ বছর আগের ১০০ টাকার কথা আমার বিন্দুমাত্র মনে ছিল না। উনি এসে যখন টাকাটা দিলেন, আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। টাকাটা হাতে নিয়ে ওনাকে ভালোবেসে ফেরত দিই, যাতে তিনি নিজে কিছু কিনে খেতে পারেন।

এসএইচএ