নগর সৌন্দর্য বর্ধন ও সবুজায়নের জন্য নির্মাণ করা হয় সড়ক ডিভাইডার। যেখানে থাকার কথা বাহারি ফুল ও সৌন্দর্য বর্ধনের গাছ। অথচ সেখানে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা, দোকান-পাট। ফেলে রাখা হয়েছে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের পণ্য। রয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এমনই চিত্রের দেখা মিলেছে খুলনা মহানগরীর কদমতলা রোডের।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সাধারণত একটি আধুনিক সড়কের ডিভাইডারের উদ্দেশ্য থাকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা, যান চলাচল সুশৃঙ্খল করা এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। কিন্তু কদমতলা সড়কের চিত্রটি এখন সম্পূর্ণ বিপরীত। কদমতলা রোডের ডিভাইডারের একটি অংশে এখন আর কোনো গাছগাছালির অস্তিত্ব নেই। কোথাও টং দোকান, কোথাও বা ফলের ভাসমান দোকান বসানো হয়েছে।
কয়েকটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান তাদের দোকানের রডসহ বিভিন্ন মালামাল ডিভাইডারের ওপর স্তূপ করে রেখেছে। এছাড়া ফল ও বিভিন্ন দোকানের ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত এখানে ফেলায় স্থানটি ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। ফলে সৌন্দর্য বাড়ার বদলে পুরো এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

পথচারী ও স্থানীয়রা জানান, দৃষ্টিনন্দন করার উদ্দেশ্যে ডিভাইডারগুলো তৈরি করা হলেও সঠিক তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা এখন দখলদারদের পেটে চলে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডিভাইডারের ওপর দোকানের মালামাল রাখা ও বেচাকেনা চলে। এর সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা জমে এক পচা দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে, যা পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিরাপদ সড়ক চাই-নিসচার খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মুন্না বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কেসিসির প্রশাসক একাধিকবার পরিদর্শন করে তাদের সরে যেতে বলেছেন। তারপর কিছু স্থানে পুনরায় তারা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। শুধু ফুটপাতই নয়, কদমতলা সড়কে সৌন্দর্য বর্ধনের ডিভাইডারেও তারা অবৈধ স্থাপনা এবং ফলের দোকান গড়ে তুলেছেন। এই সড়কে ভারী যানবাহনও চলাচল করে। এতে সড়কের মাঝখানে পণ্য ক্রয়ে যেমন ক্রেতাদের ঝুঁকি থাকছে, তেমনই গাছগুলো মরে সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কেএমপির ট্রাফিক বিভাগেরও উচিত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় সড়কের ফুটপাত ও ডিভাইডার অবৈধ দখলমুক্ত করা। দখলমুক্ত করার পর ওই সড়ক ডিভাইডারে নতুন করে সৌন্দর্য বর্ধনে গাছ লাগাতে হবে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন বলেন, বড় বাজার এলাকার কদমতলা সড়কের চওড়া রোড ডিভাইডারে ব্যবসা করছে। অনেকেই ছাদ তুলেছে। এটা খুবই খারাপ দেখা যাচ্ছে। সিটি করপোরেশনও প্রশ্নবোধক স্থানে চলে যাচ্ছে। এই সড়ক ডিভাইডারটি দখলমুক্ত করতে হবে। ওখানে অবশ্যই আমরা গাছ লাগাবো। কর্তৃপক্ষের কাছে ছবিসহ আমি দেখাব। ইনশাল্লাহ এগুলোকে অপসারণ করে সাথে সাথে গাছ লাগাব। এখানে কোনো রকম পিছু হবো না।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, কদমতলা রোডে পণ্য ওঠা-নামা করে। বিশেষ করে তরমুজ, আম, আনারস, কাঁঠাল। এটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সন্ধ্যার পর তারা সরে যায়। এখানকার অবৈধ স্থাপনাগুলোকে সরাবো। সড়ক ডিভাইডারের উপরে তারা ফল বিক্রি করছে। আমরা দেখে এসেছি। বিষয়টি আমরা নোট করেছি। খুব শিগগিরি আমরা সেখানে যাব। এছাড়া সমস্ত ডিভাইডারে আমরা ফুল গাছ লাগাব। ডিভাইডারগুলোকে পুনরায় সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মোহাম্মদ মিলন/এসএইচএ
