চুয়াডাঙ্গার দর্শনা হল্ট স্টেশনে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে নিলুফা (২৯) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্য ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন নিলুফা। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ না হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সেই হতাশা থেকেই নিজের সঙ্গে থাকা প্রায় চার বছরের শিশুসন্তানকে রেখে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দর্শনার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান তরফদার ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নিলুফা চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর এলাকার নজরুল ইসলাম রনির স্ত্রী। তিনি দর্শনা ডিহি কৃষ্ণপুর গ্রামের রেজাউলের মেয়ে। ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা শিশুটি অক্ষত রয়েছে। বর্তমানে শিশুটি রেলওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
নিহতের স্বামী নজরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেলে তার স্ত্রী নিলুফা খাতুন শিশু সন্তান লামিয়া ইসলাম আয়াতকে সঙ্গে নিয়ে একই উপজেলার উকতো গ্রামে বাবার বাড়ি যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। গভীর রাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানতে পারি।
তিনি আরও জানান, কয়েক মাস ধরে তার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিল। চিকিৎসাও চলছিল।
দর্শনা রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্বজনরা জানিয়েছেন- মেয়েটি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই শিশুসন্তানকে রেখে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। শিশু সন্তানকে তার বাবার কাছে হস্তান্তের প্রক্রিয়া চলছে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
আফজালুল হক/আরএআর
