বিজ্ঞাপন

বললেন ফেনী জেলা জামায়াত আমির

শেখ হাসিনার জন্য আয়নাঘর আর ফাঁসির কাষ্ঠ প্রস্তুত আছে

শেখ হাসিনার জন্য আয়নাঘর আর ফাঁসির কাষ্ঠ প্রস্তুত আছে

“শেখ হাসিনা নাকি ডিসেম্বরে দেশে আসবেন। তাকে আমরা স্বাগতম জানাই, আসুন আপনি বাংলাদেশে। আপনার জন্য আয়নাঘর আর ফাঁসির কাষ্ঠ প্রস্তুত আছে।” মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেনী জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ফেনী জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত গণমিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদকে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। ফ্যাসিবাদ এ দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারবে না। তেমনি করে নিজাম-শুসেনরাও আর ফেনীতে ফিরে আসতে পারবে না।

জামায়াত-শিবির ইনসাফের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। আজ শেখ হাসিনা ও তার দলই নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু জামায়াত, ছাত্রশিবির আছে এবং ইনশাআল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। আমরা ন্যায়-ইনসাফের সংগ্রাম চালিয়ে যাব। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। দুই হাজার জুলাই শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। আমাদের ৩০ হাজার জুলাই যোদ্ধার অবদানকে অস্বীকার করা যাবে না।

জেলা জামায়াত আমির আরও বলেন, ছাত্রলীগ দিনের বেলায় মিছিল করেছে। এর দায় কোনোভাবেই প্রশাসন এড়াতে পারেন না। গত ১৭ বছরে বিএনপি, জামায়াত ও ছাত্রশিবির যখন মিছিল করার চেষ্টা করেছে, তখন আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। আজ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছে? তারা কি বসে বসে আঙুল চুষছে? ছাত্রলীগকে তারা দেখে না? কীভাবে মাস্টারপাড়া, স্টেশন রোড ও লালপোলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন মিছিল করল? এর জন্য প্রশাসনকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।

মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, ফেনী পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটে মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। রান্নাবান্না, শিল্পকারখানা এবং গ্যাসচালিত যানবাহনের চালকরা কষ্ট পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ ও বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

এর আগে ফেনী কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের সামনে থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে শহরের শহীদ শহিদুল্লাহ কায়সার সড়ক, খেজুর চত্বর ও ফেনী মডেল থানা প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তারেক চৌধুরী/এমটিআই

বিজ্ঞাপন