প্রেমিকাকে নতুন মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার মতো টাকা ছিল না হাতে। তাই নিজেই আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজান বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। তবে পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেরিয়ে আসে পুরো প্রতারণার ঘটনা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে রাজশাহী থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ।
অপহরণের নাটক সাজানো শিক্ষার্থীর নাম মো. সাব্বির হোসেন। তিনি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার পলিমহেশপুর গ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুলাই বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি সাব্বির। ওই দিন রাত ৮টার দিকে তার বাবা সিদ্দিকুর রহমান দুপচাঁচিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, একটি ব্রিলিয়ান্ট (আইপি) নম্বর থেকে ফোন করে তার ছেলেকে মারধরের শব্দ শোনানো হয়। একই সঙ্গে তাকে জীবিত ফেরত পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
জিডির পরপরই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাব্বিরের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে রাজশাহী শহরে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।
তবে উদ্ধার অভিযানে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, সাব্বির কোনো অপহরণকারীর কবলে নেই বরং তিনি নিজেই রাজশাহীর একটি স্থানে আত্মগোপন করে ছিলেন। পরে তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসে ঘটনার প্রকৃত রহস্য।
জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির স্বীকার করেন, প্রেমিকাকে নতুন একটি মোবাইল ফোন উপহার দেওয়ার জন্য অর্থের ব্যবস্থা করতেই তিনি অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। এজন্য ব্রিলিয়ান্ট অ্যাপের আইপি নম্বর ব্যবহার করে নিজেই বাবার কাছে ফোন দেন, মুক্তিপণ দাবি করেন এবং মারধরের অভিনয় করে পরিস্থিতিকে বিশ্বাসযোগ্য করার চেষ্টা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে, দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির তার ভুল স্বীকার করেছে। প্রেমিকাকে মোবাইল ফোন উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে এই অপহরণের নাটক সাজিয়ে পুরো পরিবারকে চরম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল। পরে নিজের ভুল বুঝতে পারায় এবং পরিবারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং শেষে তাকে তার বাবার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আব্দুল মোমিন/এমটিআই
