বিজ্ঞাপন

ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে ভারতীয় চোরাই মোবাইল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে ভারতীয় চোরাই মোবাইল

ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে চুরি, ছিনতাই কিংবা অন্যান্য ঘটনায় হারিয়ে যাওয়া দামি স্মার্টফোন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত পেরিয়ে নিয়মিত প্রবেশ করছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। সেখান থেকে একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান সিন্ডিকেট ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, স্থানীয় মোবাইলের দোকান এবং বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সেগুলো পৌঁছে দিচ্ছে দেশের দূর-দূরান্তের জেলাগুলোতে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠোর নজরদারি ও পুলিশের নিয়মিত অভিযানে ধরা পড়লেও বড় অংশটিই রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে ফলে থামানো যাচ্ছে না এই অবৈধ ব্যবসা। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনভিত্তিক বিক্রির সুযোগ নিয়ে সিন্ডিকেটটি তাদের জাল দিন দিন আরও বিস্তৃত করছে।

জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তজুড়ে সক্রিয় এই চোরাকারবারি চক্রটি ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চোরাই ও ব্যবহৃত স্মার্টফোন সংগ্রহ করে থাকে। চোরাই চালানে সবচেয়ে বেশি আসে আইফোন, স্যামসাং, ভিভো, অপো, রেডমি, শাওমি, রিয়েলমি ও ওয়ানপ্লাসের মতো জনপ্রিয় ও ব্যয়বহুল ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন। ভারতের সীমান্ত পার করে এসব ফোন আনার জন্য পাচারকারীরা নির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করছে। বিশেষ করে শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা, শাহাবাজপুর, তেলকুপি ও শিকারী বিওপি এলাকা, ভোলাহাট উপজেলার ভোলাহাট সীমান্ত, আজমতপুর এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দরসংলগ্ন রুটগুলো দিয়েই সবচেয়ে বেশি ফোন দেশে ঢুকছে।

সীমান্ত অতিক্রম করার পর ফোনগুলো সরাসরি বাজারে না এনে প্রথমে নিরাপদ কোনো ঘাঁটিতে মজুদ করা হয়। এরপর কানসাট, শিবগঞ্জ, মনাকষা, সাহাপাড়া, রানীহাটি, মহারাজপুর, রামচন্দ্রপুর, বারোঘরিয়া, শহরের সেন্টু মার্কেট, মহিপুর বাজার, নাচোল উপজেলার নাচোল বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন মোবাইল ও মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানে তা বিক্রি করার জন্য মজুদ করা হয়। এই চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করে—একদল সীমান্ত থেকে ফোন এনে মজুদ রাখে, অন্য দল দোকানে বা সার্ভিসিং সেন্টারে তা হাতবদল করে, আর বাকি দলটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কম দামে বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে ক্রেতা সংগ্রহ করে। বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েক হাজার থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কম দামে পাওয়া যায় বলে চরম ঝুঁকি জেনেও অনেকে এসব অবৈধ ফোন কিনছেন।

এদিকে চোরাচালানের এই অপতৎপরতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিনিয়ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ৫৩ বিজিবির অভিযানে ২২৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে যার মধ্যে ১৯৬টি ফোন কাস্টমসে ও ২৭টি থানায় জমা করা হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ১৭৮টি ভারতীয় মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমান্ত দিয়ে চোরাই মোবাইলসহ সব ধরনের পণ্য পাচার রোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তে টহল জোরদারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (মহানন্দা) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন পণ্য দেশে প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আশিক আলী/আরকে

বিজ্ঞাপন