যশোর শহরের বকচর হুঁশতলা মোড় থেকে নীলগঞ্জ মেইন সড়ক পর্যন্ত সড়কটির চরম বেহালদশা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পুরো সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে হাঁটুপানি জমে যায়। একটু বেশি বৃষ্টি হলে সড়কের ওপর দিয়ে পানির স্রোত বইতে থাকে। ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ চললেও সড়কটির উন্নয়ন বা সংস্কারে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর পৌরসভার অবহেলিত সড়ক হিসেবে পরিচিত বকচর হুশতলা মোড় থেকে নীলগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটির প্রায় পুরো অংশই খানাখন্দে ভরা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটিতে কোনো উন্নয়ন বা সংস্কার হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমে যায়। ভারী বৃষ্টিতে পানি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি দ্রুত নিষ্কাশনেরও সুযোগ নেই। ফলে বৃষ্টির পানির সঙ্গে বিভিন্ন বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা মিশে সড়কটি আরও দুর্ভোগের কারণ হয়ে ওঠে। বর্ষা মৌসুমে ছড়ায় দুর্গন্ধও।
স্থানীয়রা জানান, সীমিতসংখ্যক রিকশা, ইজিবাইক ও অটোরিকশা ছাড়া বড় কোনো যানবাহন এ সড়কে চলাচল করতে পারে না। সড়কের গর্ত ও জমে থাকা পানির কারণে বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। কেউ হাত-পা কিংবা কোমরে আঘাত পাচ্ছেন, আবার কখনো হাড় ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

সড়কের বাসিন্দা আশরাফ আলী জানান, তিনি হামিদপুর আলহেরা ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। বাঘারপাড়া উপজেলায় তার গ্রামের বাড়ি হলেও চাকরির সুবাদে যশোরে বসবাস করেন। আলহেরা কলেজের কাছে হওয়ায় জায়গা কিনে এই সড়কের পাশে বাড়ি করেছেন। তার ভাষ্য, সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়কজুড়ে পানি থইথই করে। তখন চলাচলের কোনো পরিবেশ থাকে না। পৌরসভার পক্ষ থেকেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সাত থেকে আট বছর ধরে সড়কটির এমন বেহালদশা। এখন মনে হচ্ছে, এই সড়কের পাশে বাড়ি নির্মাণ করাই যেন বড় ভুল করেছি।
নীলগঞ্জের বাসিন্দা সামিউল হাসান বলেন, প্রায় সাত-আট বছর আগে পৌরসভার পক্ষ থেকে সড়কটি একবার সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এরপর থেকে সড়কটির দিকে আর কেউ নজর দেয়নি। বর্তমানে এটি যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, সড়কজুড়ে গর্ত থাকায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। তার দাবি, প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ জন মানুষ ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হন। কেউ হাত-পা কিংবা কোমরে ব্যথা পান, আবার কখনও কারো হাত-পায়ের হাড় পর্যন্ত ভেঙে যায়। পৌরসভাকে মৌখিকভাবে বহুবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আরেক বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, সড়কে পানি জমে থাকায় অনেকটা পথ ভিজে হেঁটেই চলাচল করতে হয়। এতে অসাবধানতাবশত অনেকেই পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকার কারণে সড়কের পাশের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইবাদ আলী বলেন, বকচর হুশতলা মোড় থেকে নীলগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটি একসময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কয়েকশ যানবাহন চলাচল করত। পথচারীদেরও ছিল ব্যাপক যাতায়াত। কিন্তু সড়কটি খানাখন্দে পরিণত হওয়ায় আগের মতো যানবাহন চলাচল করে না। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির এমন দুরবস্থার পরও পৌর কর্তৃপক্ষের তেমন নজর নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু সড়কের গর্তই নয়, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে। বর্ষা এলেই সড়কটি অনেকটা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে একদিকে যেমন পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ে, অন্যদিকে সড়কের স্থায়িত্বও কমে যায়। দ্রুত সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জাহেদ হোসেন বলেন, বিষয়টি পৌরসভার নজরে আছে। প্রকৌশল দপ্তর থেকে তদারকি করা হচ্ছে। সড়কটির উন্নয়নের জন্য দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শরীফ হাসান বলেন, নীলগঞ্জ তাঁতীপাড়া সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। পৌরসভার পক্ষ থেকে এটি সংস্কার বা উন্নয়নের জন্য দ্রুত টেন্ডারের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেজওয়ান বাপ্পী/এসএইচএ
