গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ বলেছেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন, তার এই বক্তব্য শুনে মাঝে মাঝে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে—আসলে সে মানসিকভাবে সুস্থ কি না। আমরা মনে করি, তার রাজনীতি করার আগে তার মানসিক সুস্থতাটা জরুরি।
রোববার (২রা আগস্ট) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে জেলা গণঅধিকার পরিষদ ও অঙ্গসংগঠন আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কিশোরগঞ্জে ছাত্র জনতার ভূমিকা, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু হানিফ বলেন, এনসিপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত তিন-চার দিন আগে কিশোরগঞ্জে এসেছিলেন। আমাদের কিশোরগঞ্জের রাজনীতি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি আমরা সবসময় সৌহার্দ্যপূর্ণ দেখি এই কিশোরগঞ্জের রাজনীতিটা। কিশোরগঞ্জের রাজনীতি একটি ইতিবাচক। কিন্তু দেখলাম যে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এখানে এসে আমাদের দলের যিনি প্রধান, নুরুল হক নূরকে নিয়ে যে কটাক্ষ করেছেন—শুধু নুরুল হক নুর নয়, এই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন, তার এই বক্তব্য শুনে মাঝে মাঝে আমাদের প্রশ্ন হয়—আসলে সে মানসিকভাবে সুস্থ কী- না। আমরা মনে করি, তার রাজনীতি করার আগে তার মানসিক সুস্থতাটা জরুরি।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু ৩৬ দিনে সংগঠিত হয় নাই। দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের এই ক্ষোভ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রতিফলিত হয়। বিশেষ করে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে এই আন্দোলন সংগঠিত হয়। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর আমরা হাসিনার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন করেছি। আমরাই এই গণঅভ্যুত্থানের পাটাতন রচনা করেছি। এই ২০২৪ সালের কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনে আওয়ামী লীগের দমনপীড়নের ফলে ছাত্রজনতা রাজপথে নামে এবং শেখ হাসিনার ১৫ বছরের দুঃশাসনের অবসান হয়। গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর, এখনও পতিত ফ্যাসিস্টের দোসররা আস্ফালন দেখাচ্ছে। বিদেশে থেকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। একটা বিষয় স্পষ্ট, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কবর রচিত হয়ে গেছে, আর ফেরার সুযোগ নাই।
তিনি বলেন, আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের সঙ্গী জামায়াত ও তাদের জোট কথায় কথায় সরকারকে ফেলে দেয়। একটা সরকার ছয় মাস হলো ক্ষমতায় আসছে তাদের সময় দিতে হবে। সরকার সবাইকে নিয়ে কাজ করবে। জামায়াত এনসিপি যে সব উসকানি ও সংঘাতমূলক বক্তব্য দিচ্ছে এতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ উৎসাহ পাচ্ছে। সুতরাং নিষিদ্ধ দল উৎসাহ পায় এমন সব কর্মকাণ্ড পরিহার করার আহ্বান রইলো বিরোধী দলের প্রতি।
আবু হানিফ বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্যাস সংকট, লোডশেডিং ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। সরকারকে এসব বিষয়ে নজর দিতে হবে। এই সাধারণ মানুষেরা এসব ভোগান্তির প্রতিবাদে যেকোনো সময় রাস্তায় নামতে পারে। ফলে এই বিষয়টি এখনই সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।
জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মুখলেছুর রহমান উজ্জ্বলের সভাপতিত্বে ও সহ- সভাপতি শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী অভি, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমেদ, জেলা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শফিকুল ইসলাম, জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়/এসএইচএ
