উচ্চশিক্ষার জন্য বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে আড়াই বছর আগে রাশিয়ায় পড়তে গিয়েছিলেন কুষ্টিয়ার মেধাবী শিক্ষার্থী খালেকুজ্জামান অনিক (২৭)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। তার কফিনবন্দি মরদেহ পৌঁছেছে কুষ্টিয়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা থেকে নিচে পড়ে মারা যান অনিক। তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। অবশেষে ১ মাস ১২ দিন রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে কফিনবন্দি হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন অনিক।
নিহত অনিক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলা গ্রামের কৃষক মানোয়ার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে অবস্থিত সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে নিজ বিশ্ববিদ্যালেয়ের পাঁচতলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে মারা যান অনিক। ১ মাস ১২ দিন পর অনিকের মরদেহ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। অনিকের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার জন্য ছুটে আসে এলাকাবাসী। বাদ জোহর স্থানীয় সওড়াতলা জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের চাচা মুফতি আলী হোসেন ফারুকী জানান, অনিক ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। অনিকের মা নেই। বাবা ও বড় ভাই আছে। প্রায় আড়াই বছর আগে বৃত্তি পেয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। এই বছরের ২১ জুন খবর আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে অনিক মারা গেছেন। কীভাবে তিনি পড়ে গেলেন সে বিষয়ে কেউ কিছু জানাননি।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হারুন অর রশিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমে অবগত হয়েছি। এই বিষয়ে মন্ত্রণালয় অথবা নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার থেকে আমাকে কেউ জানায়নি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। আমি নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করবো।
রবিউল আলম ইভান/আরএআর
