বিজ্ঞাপন

কাজই হয়নি, ফেরত গেল খাল খননের ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা

কাজই হয়নি, ফেরত গেল খাল খননের ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা

জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি প্রবাহ সচল রাখা এবং মৃতপ্রায় খাল পুনরুদ্ধারের জন্য সরকার বরাদ্দ দিয়েছিল ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪ টাকা। কিন্তু কাজের বদলে সেই অর্থের প্রায় পুরোটাই ফিরে গেছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। একটি প্রকল্পে একটি টাকাও ব্যয় হয়নি, অন্যটিতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৯ লাখ টাকা। ফলে খাল পুনঃখননের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে গেছে, আর স্থানীয়দের ভোগান্তিও রয়ে গেছে আগের মতোই।

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় বরিশাল সদর উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখননের জন্য মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে মরকখোলার পোল থেকে ঝড়ঝড়িয়াতলা বাজার হয়ে মাঝিবাড়ির ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। কিন্তু প্রকল্পটির কোনো কাজই করা হয়নি। পুরো অর্থই ফেরত দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে চরবাড়িয়া ইউনিয়নের কীর্তনখোলা নদীর পাড় (মহাবাজ) থেকে মাতাসার ব্রিজ হয়ে রায়ের খাল পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননে বরাদ্দ পাওয়া ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৯ লাখ ১৯ হাজার ৮৪৬ টাকা। অবশিষ্ট ৬৮ লাখ ৮ হাজার ৯৯৬ টাকাও ফেরত গেছে সরকারি কোষাগারে।

স্থানীয়রা জানান, খাল দুটি বছরের পর বছর ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা এলেই বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কমেছে মাছের উৎপাদনও। অথচ বরাদ্দ পাওয়ার পরও কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সম্ভাব্য সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন হাজারো মানুষ।

লাকুটিয়া এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, খালটি এখন কার্যত ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে আশপাশের এলাকা পানিতে ডুবে যায়। বরাদ্দ পাওয়ার পরও কাজ না হওয়া আমাদের জন্য বড় হতাশার।

প্রশ্ন উঠেছে, জেলার অন্যান্য উপজেলায় একই কর্মসূচির আওতায় খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হলেও সদর উপজেলায় কেন তা সম্ভব হলো না। পরিকল্পনার ঘাটতি, বাস্তবায়নে অদক্ষতা নাকি সমন্বয়ের অভাব-এর দায় কার, সে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোজাম্মেল হক বলেন, খাল দুটি খননের জন্য এক্সকাভেটর চালানোর মতো জায়গা ছিল না। আবার শ্রমিক দিয়ে খনন করলে উত্তোলিত মাটি ও আবর্জনা তাৎক্ষণিক অপসারণ করতে হতো, কিন্তু প্রকল্পের বরাদ্দে সেই ব্যয় ধরা ছিল না। এ কারণেই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি এবং অর্থ ফেরত দিতে হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে এমন সীমাবদ্ধতা যদি আগে থেকেই জানা থাকে, তাহলে বরাদ্দ নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বা বিকল্প ব্যবস্থা কেন করা হয়নি বলে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানা ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই বরাদ্দের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। কেন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। 

খাল দুটি পুনঃখনন জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে পুনরায় বরাদ্দ চাওয়া হবে। পাশাপাশি লাকুটিয়া খাল ও জেল খাল পুনরুদ্ধারেও জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এসএইচএ