দেশের অন্যতম প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। নতুন নির্দেশনায় হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযান পরিচালনায় একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১০ আগস্ট এর মধ্যে সব হাউসবোট মালিক ও ট্যুর অপারেটরকে জেলা প্রশাসনের কাছে নিবন্ধনের আবেদন করতে বলা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসিএ ঘোষিত এলাকার অভ্যন্তরে সব ধরনের ব্যক্তিগত হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। তবে টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটন কার্যক্রম বা ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। জেলা প্রশাসন নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করেই পর্যটকদের হাওর ভ্রমণ করতে হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানে পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। উচ্চস্বরে গান বাজানো, মাইক ব্যবহার এবং কোনো ধরনের পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার করা যাবে না। বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য প্রতিটি নৌযানে ফিল্টারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

এ ছাড়া প্রতিটি হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়া, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জরুরি যোগাযোগের নম্বর দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখতে হবে। প্রতিটি নৌযানে বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য অন্তত দুটি ডাস্টবিন রাখতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই হাওর বা জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা যাবে না।
জেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে, প্রতিটি ভ্রমণ শেষে হাউসবোট মালিক ও ট্যুর অপারেটরদের যথাযথভাবে বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি আকস্মিক ঝড়, প্রবল বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে সব হাউসবোট ও ট্যুর অপারেটরকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে সংশ্লিষ্ট হাউসবোট বা নৌযানকে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান ঢাকা পোস্ট কে বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই কিন্তু হাউজবোট ও যান্ত্রিক বোটে ভ্রমণ নিষেধ। পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার এলাকায় যান্ত্রিক নৌযান প্রবেশ রোধেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হাউজবোটগুলো তাদের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেই পর্যটকদের নিয়ে হাওর ভ্রমণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটন কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ দূষণ, শব্দদূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নানা অভিযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মধ্যনগর ও নেত্রকোনা দিক থেকে আসা কিছু নৌযান হাওরের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করছে এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করতেই নতুন নির্দেশনাগুলো জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তামিম রায়হান/এসএইচএ
