মামলার বাদী আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় কোনো স্থানীয় আইনজীবী পাচ্ছিলেন না সাত আসামি। ফলে লঘু অপরাধের মামলায় দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে কারাগারে ছিলেন তারা। অবশেষে জেলা লিগ্যাল এইডের হস্তক্ষেপে তারা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আমলি আদালতে প্যানেল আইনজীবী মোহাম্মদ ইসমাইল জামিনের আবেদন জানালে শুনানি শেষে বিচারক (অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) ইসমত আরা তুসি তা মঞ্জুর করেন।
জামিনপ্রাপ্তরা হলেন— ঈমাম হোসেন বাররু, মো. রমিন, মো. আকিব, মো. কুইক আলী, মো. জিদান, মো. সিফাত আলী ও মো. পরশ। তাদের মধ্যে পাঁচজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক (বয়স ১৮ বছরের কম)। আদালতের রিলিজ অর্ডার কারাগারে পৌঁছালেই তারা কারামুক্ত হবেন।
জানা যায়, জেলা আইনজীবী সমিতিতে একটি সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত আড়াই মাস ধরে বন্দি ছিলেন তারা। মামলার বাদী নিজেই আইনজীবী সমিতির সদস্য হওয়ায় আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াতে রাজি হচ্ছিলেন না। দীর্ঘদিন আইনি সহায়তা না পেয়ে আসামিরা কারাগারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন এবং তাদের স্বজনরা মারাত্মক অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েন।
পরবর্তীতে আসামিরা জেল সুপারের মাধ্যমে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির নিকট আইনি সহায়তার আবেদন জানান। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় এবং জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। পরে জেলা লিগ্যাল এইডের পক্ষ থেকে আইনজীবী মো. ইসমাইলকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তিনি আজ রোববার আদালতে জামিনের আইনি লড়াই পরিচালনা করেন।
কারাবন্দিদের স্বজন ওবায়দুল হক বলেন, মামলার বাদী আইনজীবী হওয়ার কারণে কোনো আইনজীবী পাওয়া যাচ্ছিল না। তারা জেলখানায় মানবেতর জীবন পার করেছে। অনেক গণ্যমান্য লোক নিয়ে বসার পরেও কোনো সুরাহা হয়নি এবং আইনজীবী পায়নি। এমনকি ঈদও তাদের জেলখানায় পার করতে হয়েছে। পরে আজ লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনজীবী পাওয়া গেলো এবং তাদের জামিন হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্যসচিব মো. আবু সাঈদ বলেন, যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিরই আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করার অধিকার সারা পৃথিবীব্যাপী স্বীকৃত ও সাংবিধানিক অধিকার। তিনি যত বড় অপরাধে অভিযুক্ত হোক না কেন, তাকে পছন্দমতো আইনজীবী নিয়োগ করার অধিকার থেকে কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না। এটা ন্যায়বিচারের অন্যতম একটি মূলনীতি। যদি সেই অপরাধী আইনজীবী নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হয়ে যায় তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের। তবে আইনজীবীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো মামলায় কোনো আইনজীবী যদি আসামিদের পক্ষে দাঁড়াতে না চান, তাহলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রায় অনুযায়ী আইনজীবী সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদককে অবশ্যই আসামিদের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।
আশিক আলী/আরএআর
