বিজ্ঞাপন

বরগুনায় লোডশেডিং বন্ধসহ ৭ দফা দাবিতে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

বরগুনায় লোডশেডিং বন্ধসহ ৭ দফা দাবিতে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

বরগুনায় ঘনঘন লোডশেডিং বন্ধসহ ৭ দফা দাবিতে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জেলার অন্তত ১০ লাখ মানুষের মারাত্মক বিদ্যুৎ সংকট ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে এ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় আগামী ৭ দিনের মধ্যে লোডশেডিংয়ের উন্নতি না হলে, বিদ্যুৎ অফিস তালা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা। 

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির ব্যানারে পৌরশহরের প্রেসক্লাব সংলগ্ন সদর রোড এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে প্রধান কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বরগুনা অফিসের সামনে ঘেরাও কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়।

বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা বলেন, বরগুনায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ মারাত্মক বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকেনা। বর্তমানে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ফলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে  দক্ষিনাঞ্চলের তালতলী ও পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরিবেশের ক্ষতি করে কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কিন্তু ওই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে বরগুনার মানুষ চরম ক্ষতির শিকার হলেও এই জেলায় ঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে না।  তবে এখানকার উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়েই সারাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা হলেও বরগুনায় বিদ্যুৎ দেওয়া হয়, চাহিদার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ। এ কারণেই আগে বরগুনার চাহিদা পূরণ করে লোডশেডিং বন্ধসহ ৭ দাফা দাবি আদায় করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা। 

কর্মসূচিতে ৭ দফা দাবিগুলো হলো- বরগুনায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। নিজেদের টাকায় মিটার কিনেও প্রতিমাসে ডিমান্ড চার্জ দিতে হচ্ছে, ডিমান্ড চার্জ বন্ধ করতে হবে। হঠাৎ করে প্রায় দ্বিগুণ ইউনিট চার্জ বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। আগের মতো ইউনিট চার্জ নির্ধারণ, অথবা পুনঃবিবেচনা করে ইউনিট চার্জ পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। প্রতিমাসে মিটার না দেখে বিল করা যাবে না, একত্রে বেশী ইউনিটের বিল করে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না। মিটারবিহীন অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সাথে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করা যাবে না এবং বরগুনায় পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস চালু করতে হবে।

বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচির বক্তব্যে জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামল বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বরগুনায় লোডশেডিং চলছে। বরগুনা শহরে বিদ্যুতের চাহিদা মাত্র ৬ মেগাওয়াট এবং পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ১২ মেগাওয়াটসহ সব মিলিয়ে জেলায় মোট ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দরকার হয়। কিন্তু এ চাহিদার বিপরীতে বরগুনায় আজ মাত্র ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে। আর এ কারণেই জেলায় ঘনঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে তালতলীতে কয়লাভিত্তিক এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ১ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও আমাদের চাহিদা পূরণ না করে উৎপাদিত ওই বিদ্যুৎ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। বরগুনার বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করে লোডশেডিং বন্ধসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।  

বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমাদের দক্ষিণ অঞ্চল থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও আমরা মাত্র ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত। আমাদের এ অঞ্চলের পরিবেশের ক্ষতি হলেও উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে মাত্র ১২ মেগাওয়াটও আমারা পাচ্ছি না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। আমাদের দাবি একটাই- উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে বরগুনা জেলার চাহিদা পূরণের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হোক, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। 

ঘেরাও কর্মসূচি ও সমাবেশ শেষে বরগুনার বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসনসহ ৭ দফা দাবিতে বরগুনার দুটি আসনের সংসদ সদস্য, বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও প্রদান করেন তারা। 

আব্দুল আলীম/আরএআর