দীর্ঘ এক দশক ধরে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সংস্কার বরাদ্দ হলে সামান্য কাজ করে পালিয়েছে ঠিকাদার। তবে আবার সড়ক সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও কাজ শেষ তো দূরের কথা, নতুন ঠিকাদারও এখনো কাজ শুরু করেনি। ফলে খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে নীলফামারীর ডোমার উপজেলা শহর থেকে সোনারায় ইউনিয়েনের বসুনিয়া হাট এলাকার প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটি বহুদিন ধরে সংস্কার হয়নি। পিচ-পাথরের কার্পেটিং আর ইটের খোয়া উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। পুরো সড়ক জুড়ে বেহাল অবস্থা। এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে মসজিদ, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, প্রাইভেট ক্লিনিক, বিদ্যুৎ অফিস, ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করেন স্থানীয়রা। সড়কটির বেহাল অবস্থা হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ডোমার উপজেলা শহর থেকে বসুনিয়ার হাট ৬ দশমিক ৭০ কিলোমিটার, ডোমার-আমবাড়ি ১৩ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার এবং বোড়াগাড়ি থেকে বাবুরহাট ৪ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার সড়ক একটি প্যাকেজে সংস্কারের জন্য ২০২১ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়, যার ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ ও ইউনিক কনস্ট্রাকশন জেভি। ২০২১ সালের ১৪ জুলাই তাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজও শুরু করে। তবে ২০২২ সালের অক্টোবর মাস থেকে কাজ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার। এরপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কাজটি বাতিল করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তিন কোটি টাকা জরিমানা করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
পরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওই প্যাকেজের পুনঃ দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় এসবি জেভি। ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে চলতি বছরের ২৩ জুন এসবি জেভিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২৯ জুন কাজ শুরু করে ২০২৭ সালের ১৫ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু এখনো কাজ শুরু করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

স্থানীয় বাসিন্দা রাশের ইসলাম বলেন, রাস্তা দিয়ে যানবাহন নিয়ে চলাচল করার মতো না। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে রাস্তার এমন বেহাল অবস্থা, পুরো রাস্তায় গর্ত হয়েছে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা জরুরি।
আরেক বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করি কিন্তু দীর্ঘদিন হলেও এটি ঠিক করা হয়নি। আমরা এলাকাবাসী একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানিয়েছি।
সড়কে যাতায়াত করা অটোরিকশাচালক শাহিন ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি, যাত্রী নিয়ে অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। রাস্তাটির কারণে মানুষ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। রাস্তাটির কারণে আমরা অনেক ভোগান্তির মধ্যে আছি।

এবিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল বলেন, সেখানে এখনো কিছু মেজারমেন্টের কাজ বাকি আছে, আশা করি চলতি মাসেই কাজ শুরু করা হবে।
এবিষয়ে জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামিম আখতার বলেন, সেখানে আগে যাদের কাজ দেওয়া হয়েছিল তারা সামান্য কাজ করেই পালিয়েছে। পরে সেখানের কাজ এসবি জেভিকে দেওয়া হয়েছে। তারা চলতি মাসের মধ্যে কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।
শাহজাহান ইসলাম লেলিন/এসএইচএ
