বিজ্ঞাপন

‘মাদকের নেশায় মানুষ চুরি-ডাকাতি থেকে ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়ায়’

‘মাদকের নেশায় মানুষ চুরি-ডাকাতি থেকে ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়ায়’

মাদক শুধু একজন মানুষের জীবনই ধ্বংস করে না, এটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও বড় হুমকি। মাদকের নেশায় আসক্ত একজন ব্যক্তি একসময় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অনলাইন জুয়া এমনকি ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধেও জড়িয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম)।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে মাগুরার শ্রীপুর থানা চত্বরে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং সভা ও নবগঠিত কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মাদকের নেশা যত ধরনের অপরাধ আছে, তার প্রায় সবকটির সঙ্গেই মানুষকে সম্পৃক্ত করে ফেলে। তাই কারও মধ্যে যদি নেশাজাতীয় কোনো কিছুর প্রতি আকর্ষণ থেকে থাকে, তাহলে আজই সেটি ত্যাগ করুন।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের  সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। এ কারণে শ্রীপুর থানা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্যদেরও ডোপ টেস্টের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য যাতে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত না থাকেন, সেজন্য মাগুরা জেলা পুলিশের প্রত্যেক সদস্যকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে তাদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হয়েছে।

নবগঠিত কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের মধ্যে কেউ যদি ধূমপান, মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে অনুরোধ করব এখনই তা পরিহার করুন। মাদকের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। পবিত্র কোরআনসহ সব ধর্মগ্রন্থেই নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় আইনেও মাদক নিষিদ্ধ এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই মাদক ও অনলাইন জুয়া থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে।

সহকারী পুলিশ সুপার বাপ্পী কুমার দাসের সঞ্চালনায় এবং শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ খন্দকার আব্বাসউদ্দীন।

অনুষ্ঠানে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ, গ্রাম্য সংঘর্ষ প্রতিরোধ এবং জনসম্পৃক্ত পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবগঠিত ১৫ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণ ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।

তাছিন জামান/এসএইচএ