রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সঞ্চয় ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানতের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সদ্য সাবেক পোস্টমাস্টারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে ডাক বিভাগ। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুরের উপপরিচালককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ী বারের আইনজীবী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বিজন কুমার বোস।
এর আগে গত রোববার (২ আগস্ট) কুষ্টিয়া ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় রাজবাড়ীর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার আসামিরা হলেন— রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের প্রাক্তন সহকারী পোস্টমাস্টার ও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পোস্টমাস্টার (বর্তমানে কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার) বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, তার ছোট ভাই ও পিএলআই এজেন্ট মাহবুব হাসান মৃধা, অফিস সহায়ক রেজাউল আলম, তৎকালীন ট্রেজারার নাজমুল হাসান, পোস্টাল অপারেটর গোলাম মোস্তফা বাচ্চু এবং প্রণব কুমার সরকার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। সঞ্চয় ব্যাংকের টাকা জমা নেওয়ার জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তা ও ফরম থাকা সত্ত্বেও লেটার রাইটার শিহাব মৃধা বেআইনিভাবে জমা স্লিপের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতেন। এ কাজে তাকে তার ভাই মাহবুব হাসান মৃধা, অফিস সহায়ক রেজাউল আলমসহ অন্য আসামিরা সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া গ্রাহকরা পাসবই ও হিসাব সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে জানালেও তিনি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি।
পরে নতুন পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ দায়িত্ব গ্রহণের পর অনিয়ম ও জালিয়াতির বিষয়টি শনাক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। বিভাগীয় তদন্তে উঠে আসে, শিহাব মৃধা ৭৪ জন গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করে তা ডাকঘরের ট্রেজারিতে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরে তিনি ১৩ জন গ্রাহককে ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ফেরত দিলেও এখনও ৬১ জন গ্রাহকের ৯১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেননি। ঘটনা প্রকাশের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
তদন্ত চলাকালে শিহাব মৃধার পক্ষে তার ভাই মাহবুব হাসান মৃধা, মামা রেজাউল আলম এবং তাদের মা শিউলি বেগম ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গ্রাহকদের সব টাকা ফেরত দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের আগের দিন ৩০ জুলাই বিকেলে তারা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, আত্মসাৎ হওয়া টাকা দ্রুত ফেরত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
রাজবাড়ী বারের আইনজীবী ও দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বিজন কুমার বোস বলেন, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুরের উপপরিচালককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এসএইচএ
