বিজ্ঞাপন

কুমারখালীতে ব্রিটিশ আমলের টানেলই এখন ‘গলার কাঁটা’

কুমারখালীতে ব্রিটিশ আমলের টানেলই এখন ‘গলার কাঁটা’

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটি রেল টানেল এখন স্থানীয়দের কাছে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এবং অপরিকল্পিতভাবে আশপাশের জমি ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়ক পরিণত হয় মরণফাঁদে।

২০ মিটার সড়কটি পাকা অথচ বছরের প্রায় ৬ থেকে ৮ মাস হাঁটুসমান পানির নিচে ডুবে থাকে। এতে কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ আমলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ টানেলটি নির্মাণ করে। দীর্ঘদিন ধরে এই টানেলের নিচ দিয়েই কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত হয়ে আসছে। তবে সময়ের সঙ্গে আশপাশের ফাঁকা জায়গা ভরাট করে বাড়িঘর, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে এলাকায় কোনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নেই।

ফলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি টানেলের নিচে জমে থাকে। পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটি বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকে। এভাবেই বছরের প্রায় ৬ থেকে ৮ মাস পানির নিচে ডুবে থাকে সড়কটি। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানেলের দুই পাশে জমে থাকা পানির মধ্য দিয়েই কাপড় গুটিয়ে, মাথায় ব্যাগ তুলে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ও কর্মস্থলে যাচ্ছেন মানুষ।

স্থানীয় আলাউদ্দিন নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হুজাইফা বলে, প্রতিদিন পানির ভেতর দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। বই-খাতা ও স্কুলড্রেস ভিজে যায়। অনেক সময় পানি বেশি থাকলে স্কুলেও যেতে পারি না। আবার পানির নিচে রাস্তা ভাঙা থাকায় চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে আমার ঠিক মতো স্কুলে যেতে পারবো।

স্থানীয় পথচারীরা জানান, শুধু বর্ষাকালেই নয়, বর্ষা শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন পানি জমে থাকে। অনেক সময় বিকল্প পথে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। এখানে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার প্রয়োজন।

স্থানীয় কৃষক বিষু শিকদার বলেন, বর্ষা শুরু হলে পানি জমে, আর শুকাতে শুকাতে চৈত্র-বৈশাখ চলে আসে। আগে চারপাশ ফাঁকা ছিল, মহাসড়কের পাইপ দিয়ে পানি বিলে নেমে যেত। এখন সবাই জায়গা ভরাট করে বাড়িঘর ও দোকান করেছে। ফলে পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই। খুব কষ্ট করে আমাদের চলাচল করতে হয়।

কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ চলাচল করেন। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। আবার রাস্তা উঁচু করলে টানেলের ভেতর দিয়ে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে ব্রিটিশ আমলের উন্নয়ন এখন আধুনিক যুগের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

কুমারখালী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক বলেন, এই জায়গায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে পানি জমে থাকে। স্থায়ী সমাধানের জন্য মহাসড়কে একটি কালভার্ট নির্মাণ প্রয়োজন। যা এলজিইডির পক্ষে সম্ভব নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই বিষয়ে আমি অবগত আছি। প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। টানেলটি ব্রিটিশ আমলের হওয়ায় এর উচ্চতা ও কাঠামোগত বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পরিকল্পিতভাবে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রবিউল আলম ইভান/এমএমবি

বিজ্ঞাপন