বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি বাড়িতে রহস্যজনক বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়া একই পরিবারের তিন সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। তাদের চিকিৎসার ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের উৎস ও দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
চিকিৎসকদের পরামর্শে সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহম্মেদের নির্দেশনায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে আহত হনুফা বেগম, তার মেয়ে ইতি এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাতি ফাহিমকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এ সময় তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
তাদের উন্নত চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন বহন করবে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহম্মেদ।
তিনি বলেন, আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার ব্যয় বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন বহন করবে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, সোমবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি এবং নাতি ফাহিম গুরুতর দগ্ধ হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর সুপারিশ করেন।
ঘটনার পর বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ.জেড.এম. মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহম্মেদ, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রশাসন সূত্র জানায়, বরিশালের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপনও আহতদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে একাধিকবার খোঁজ নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার নির্দেশনা দিয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। কী ধরনের বিস্ফোরক থেকে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন।
আরিফ হোসেন/এসএইচএ
